
রুপোলি পর্দার এক বর্ণময় অধ্যায়ের আকস্মিক অবসান। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম ভাঙতেই চরম দুঃসংবাদ পেল গোটা দেশ। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকর। তাঁর এই আচমকা চলে যাওয়ায় শোকস্তব্ধ আপামর সিনেমাপ্রেমী। বর্ষীয়ান অভিনেতার প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্ট করে এই কিংবদন্তি শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি।
এই দুঃসংবাদ সামনে আসার পর থেকেই চারপাশ ভারাক্রান্ত। নিজের পোস্টে শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, “কিংবদন্তি অভিনেতা শ্রী নানা পাটেকরজির আকস্মিক প্রয়াণের খবর শুনে দিনটা শুরু হওয়া চরম ধাক্কার। এটা একটা হৃদয়বিদারক অনুভূতি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, নানা পাটেকর শুধুমাত্র কোনও সাধারণ অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ক্যামেরার সামনে শুধু সংলাপ বলাই নয়, নিজের প্রতিটি চরিত্রের মধ্যে দিয়ে সমাজের রূঢ় বাস্তবকে তিনি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতেন।
‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’ কিংবা ‘প্রহার’-এর মতো সিনেমায় তাঁর দাপুটে অভিনয় আজও দর্শকের মনে গেঁথে রয়েছে। পাশাপাশি ‘অব তক ছপ্পন’-এর মতো থ্রিলার ছবিতে তিনি যে মাইলফলক তৈরি করেছিলেন, তা ছোঁয়া যে কোনও অভিনেতার কাছেই আজও এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তায় ঠিক এই কথাগুলোই উঠে এসেছে।
ক্যামেরার বাইরের মানুষ নানা পাটেকরকেও স্মরণ করেছেন তিনি। একেবারে সাদামাটা জীবনযাপন এবং মাটির কাছাকাছি থাকা এই মানুষটির সমাজসেবার দিকটিও তাঁর লেখায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য তাঁর নিরলস কাজ এবং গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, পর্দায় হিরো হওয়ার পাশাপাশি বাস্তবেও বহু মানুষের বিপদে ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন এই প্রবীণ অভিনেতা।
বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ গোয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন ৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা। তড়িঘড়ি তাঁকে ডোনা পাওলার এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মরদেহ মুম্বইয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। শোকবার্তার শেষে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “ওঁ শান্তি। আপনার কাজ ও আদর্শ চিরকাল মানুষের মনে থাকবে।” অভিনেতার পরিবার ও অগণিত অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, নানা পাটেকরের এই প্রয়াণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল।