অপর্ণা সেনের ছেড়ে দেওয়া ছবি করেই জাতীয় পুরস্কার শাবানা আজমির! ঠিক কী ঘটেছিল?

অপর্ণার কাছে পৌঁছানোর আগে এই ছবির প্রস্তাব নিয়ে একাধিক অভিনেত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন নবাগত পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। অপর্ণা যখন চরিত্রটি ফিরিয়ে দেন, বেনেগাল কোনো জোরাজুরি বা বাড়তি কৈফিয়ত ছাড়াই তা মেনে নিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে একজন নতুন পরিচালকের এই পেশাদারিত্বও অপর্ণাকে মুগ্ধ করেছিল।

অপর্ণা সেনের ছেড়ে দেওয়া ছবি করেই জাতীয় পুরস্কার শাবানা আজমির! ঠিক কী ঘটেছিল?

|

Apr 03, 2026 | 4:37 PM

সিনেমার ইতিহাসে এমন অনেক মুহূর্ত থাকে, যেখানে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর ফিরিয়ে দেওয়া চরিত্র অন্য কারও ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেয়। ভারতীয় সমান্তরাল সিনেমার মাইলফলক ‘অঙ্কুর’ ছবির ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছিল। পরিচালক শ্যাম বেনেগালের সেই কালজয়ী ছবিতে ‘লক্ষ্মী’র চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব প্রথম গিয়েছিল অপর্ণা সেনের কাছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে থাকা বাস্তব কারণগুলি খোলসা করলেন অভিনেত্রী ও পরিচালক।

‘স্ট্রেট আপ উইথ শ্রী’ পডকাস্টে হাজির হয়ে অপর্ণা সেন জানান, সেই সময় তাঁর হিন্দি ফিল্ম কেরিয়ার আশানুরূপ এগোচ্ছিল না। মূলধারার হিন্দি ছবির নায়িকা হওয়ার খুব একটা ইচ্ছেও তাঁর ছিল না। তবে ‘অঙ্কুর’ ফিরিয়ে দেওয়ার মূল কারণ ছিল ছবির চিত্রনাট্য। চরিত্রটির জন্য হিন্দি ভাষার পাশাপাশি তাতে তেলেগু টানের প্রয়োজন ছিল।

অপর্ণা বলেন, “গল্পটা আমার ভীষণ ভালো লেগেছিল। কিন্তু একজন গৃহপরিচারিকার চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে নিজের অভ্যস্ত বুলির বাইরে অন্য একটি অঞ্চলের ভাষার টান নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে আমি সন্দিহান ছিলাম।”

মজার বিষয় হল, অপর্ণার কাছে পৌঁছানোর আগে এই ছবির প্রস্তাব নিয়ে একাধিক অভিনেত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন নবাগত পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। অপর্ণা যখন চরিত্রটি ফিরিয়ে দেন, বেনেগাল কোনো জোরাজুরি বা বাড়তি কৈফিয়ত ছাড়াই তা মেনে নিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে একজন নতুন পরিচালকের এই পেশাদারিত্বও অপর্ণাকে মুগ্ধ করেছিল।

অপর্ণা সেনের সেই একটি ‘না’ ভারতীয় চলচ্চিত্রে জন্ম দিয়েছিল এক নতুন নক্ষত্রের। ‘লক্ষ্মী’র চরিত্রে সুযোগ পান শাবানা আজমি। এক জমিদারের সঙ্গে পরিচারিকার জটিল সম্পর্কের সেই সমীকরণ পর্দায় অসামান্য দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। নিজের প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেন শাবানা, ঝুলিতে পুরে নেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার। ‘অঙ্কুর’ ছবিটির মাধ্যমেই ভারতীয় সমান্তরাল সিনেমায় নিজের আসন পাকা করে ফেলেন তিনি। আজ ফিরে তাকালে বোঝা যায়, অপর্ণা সেনের সেই সিদ্ধান্ত যেমন তাঁর সততার পরিচয় ছিল, তেমনই তা শাবানা আজমির মতো এক কিংবদন্তি অভিনেত্রীকে আবিষ্কার করার সুযোগ করে দিয়েছিল বিশ্ব চলচ্চিত্রের দরবারে।

Follow Us