অমৃতাকে কত কোটি টাকা খোরপোশ দিয়েছিলেন সইফ? জানলে চমকে যাবেন
বিচ্ছেদের পর সইফের অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে পড়েছিল যে, তাঁকে নিজের বাড়ি ছাড়তে হয়। তিনি জানান, "আমার কাছে অত টাকা ছিল না। আমি বিজ্ঞাপনে কাজ করে, স্টেজ শো করে সেই টাকা জমিয়েছি। এমনকি আমার থাকার জায়গা ছিল না, আমি একটা সাধারণ ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠেছিলাম।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সইফ আলি খান ও অমৃতা সিংয়ের বিয়ে ছিল বলিউডের সবথেকে বড় চমক। কিন্তু সেই রূপকথার পরিণাম সুখের হয়নি। ২০০৪ সালে যখন তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়, তখন খোরপোশের অঙ্ক নিয়ে বলিপাড়ায় শুরু হয়েছিল জোর চর্চা। সম্প্রতি এক পুরনো সাক্ষাৎকারে সইফ নিজেই খোলসা করেছিলেন সেই কঠিন সময়ের কথা।
সইফ আলি খান জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের সময় অমৃতা সিং তাঁর কাছে ৫ কোটি টাকা খোরপোশ দাবি করেছিলেন। ২০০৪ সালের নিরিখে এই অঙ্কটি ছিল বিশাল। সইফ জানান, সেই সময় তাঁর কাছে একবারে এত টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না।
নবাব পুত্র হলেও সইফের আর্থিক অবস্থা তখন খুব একটা সচ্ছল ছিল না। সইফ বলেছেন, “আমি অমৃতাকে কথা দিয়েছিলাম ৫ কোটি টাকা দেব। যার মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ২.৫ কোটি টাকা দিয়েছিলাম। বাকি টাকাটা আমি প্রতি মাসে এক লক্ষ টাকা করে কিস্তিতে শোধ করেছি।” সইফের দাবি ছিল, তাঁর ছেলে ইব্রাহিম ও মেয়ে সারা ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই টাকা দিয়ে গিয়েছেন।
বিচ্ছেদের পর সইফের অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে পড়েছিল যে, তাঁকে নিজের বাড়ি ছাড়তে হয়। তিনি জানান, “আমার কাছে অত টাকা ছিল না। আমি বিজ্ঞাপনে কাজ করে, স্টেজ শো করে সেই টাকা জমিয়েছি। এমনকি আমার থাকার জায়গা ছিল না, আমি একটা সাধারণ ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠেছিলাম।” যদিও আজ সইফ পতৌদি রাজপ্রাসাদ এবং কয়েকশো কোটি টাকার মালিক, কিন্তু সেই সময় অমৃতাকে খোরপোশ দিতে গিয়ে তাঁকে যথেষ্ট স্ট্রাগল করতে হয়েছিল।
বর্তমানে সইফ এবং অমৃতা দুজনেই নিজেদের জীবনে থিতু। সইফ বিয়ে করেছেন করিনা কাপুরকে এবং তাঁদের দুই পুত্র তৈমুর ও জেহ রয়েছে। অন্যদিকে অমৃতা তাঁর দুই সন্তান সারা ও ইব্রাহিমকে নিয়ে একা থাকেন। যদিও সইফের সঙ্গে অমৃতার বিশেষ যোগাযোগ নেই, তবে সন্তানদের খাতিরে মাঝেমধ্যে তাঁদের একই ফ্রেমে দেখা যায়। সইফের সেই কঠিন দিনের গল্প আজও বলিউডের সবথেকে আলোচিত এবং ‘দামি’ বিবাহবিচ্ছেদের তালিকায় ওপরের দিকেই থাকে।
