অপর্ণা সেনের মেয়ে হওয়ায় কোন বিশেষ সুবিধা পান কঙ্কনা?

কঙ্কনার মতে, একজন সাধারণ মহিলার লড়াই আর তাঁর লড়াই এক নয়। কেন? কারণ তিনি স্বনামধন্য পরিচালক অপর্ণা সেনের মেয়ে। সেই সঙ্গে তাঁর শিক্ষা এবং দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে এমন এক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে, যেখান থেকে কেউ চাইলেই তাঁকে গুরুত্ব না দিয়ে থাকতে পারেন না।

অপর্ণা সেনের মেয়ে হওয়ায় কোন বিশেষ সুবিধা পান কঙ্কনা?
বিশেষ সুবিধা পান কঙ্কনা

Apr 09, 2026 | 2:52 PM

বলিউড থেকে টলিউড—সব জায়গাতেই নারী-পুরুষের বৈষম্য নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন কঙ্কনা সেনশর্মা। অভিনয় জীবন থেকে পরিচালনার মঞ্চ, গত ২৫ বছরে তাঁর সফরনামা এক লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দেয়। তবুও, ইন্ডাস্ট্রিতে গেঁথে থাকা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কঙ্কনা এক রূঢ় বাস্তব সামনে আনলেন। স্পষ্ট জানালেন, এই দুনিয়ায় এখনও মহিলারা লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হন, তবে নিজের ক্ষেত্রে তিনি একটি ‘বিশেষ সুবিধা’ বা প্রিভিলেজের কথা স্বীকার করতেও দ্বিধাবোধ করেননি অভিনেত্রী ।

কঙ্কনার মতে, একজন সাধারণ মহিলার লড়াই আর তাঁর লড়াই এক নয়। কেন? কারণ তিনি স্বনামধন্য পরিচালক অপর্ণা সেনের মেয়ে। সেই সঙ্গে তাঁর শিক্ষা এবং দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে এমন এক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে, যেখান থেকে কেউ চাইলেই তাঁকে গুরুত্ব না দিয়ে থাকতে পারেন না। তাঁর কথায়, “আমি এক অনন্য সুবিধা পেয়েছি। বহু বছর অভিনয় করছি, সবাই আমাকে চেনেন। সেই সঙ্গে পড়াশোনাও আমাকে একটা আলাদা আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। তাই চাইলেই আমাকে কেউ ডিসমিস করতে পারে না।”

কিন্তু এই সুযোগ বা সুবিধা কি সবার আছে? কঙ্কনা মেনে নিয়েছেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে বহু মহিলা এবং এমনকি পুরুষরাও পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার যাঁতাকলে পিষ্ট হন। অনেকেরই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সরব হওয়ার সুযোগ থাকে না।

কঙ্কনা মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত কয়েক বছরে বলিউডে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত বদল এসেছে। সাত-আট বছর আগেও মেকআপ আর্টিস্ট মানেই ছিলেন পুরুষ, আর মহিলারা শুধুই হেয়ারড্রেসার। সেই অলিখিত নিয়ম এখন ভেঙেছে। এখন বহু মহিলা এডিটর হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু এখনও ক্যামেরা বা লাইট ডিপার্টমেন্টে মহিলাদের দেখা পাওয়া দুর্লভ। কঙ্কনার আর্জি, “এই সব জায়গায় যদি আরও বেশি মহিলাদের নিয়োগ করা যায়, তবেই প্রকৃত বদল সম্ভব।”

নিজের ছবি ‘অ্যাকিউজড’ (Accused) নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আক্ষেপ ঝরে পড়ল অভিনেত্রীর গলায়। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে কোন ছবি কত টাকা কামাবে, সেটাই একমাত্র মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ভিন্ন স্বাদের ছবিগুলো হলের বদলে ওটিটি-র ভরসায় পড়ে থাকে। তিনি চান, বাজার চলতি সিনেমার পাশাপাশি গভীর চরিত্র বা সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে তৈরি ‘স্লো-বার্ন’ সিনেমাগুলোও যেন বড় পর্দায় জায়গা পায়।

 

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us