
তামিলনাড়ুর রাজনীতি আর সিনেমা, এই দুই দুনিয়া বরাবরই একে অপরের পরিপূরক। আর এই মুহূর্তে দক্ষিণী রাজনীতির সবচেয়ে বড় খবর হল, থলপতি বিজয় (Vijay) এখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। বিজয় মসনদে বসার পর থেকেই থলাইভা রজনীকান্তের (Rajinikanth) সঙ্গে তাঁর সমীকরণ নিয়ে জোর চর্চা চলছে টিনসেল টাউনে। শোনা যাচ্ছিল, জুনিয়রের এই বিপুল সাফল্যে নাকি ভেতরে ভেতরে বেশ হিংসে করছেন সিনিয়র সুপারস্টার। অবশেষে এই সমস্ত জল্পনা এবং গুঞ্জন নিয়ে সপাটে মুখ খুললেন স্বয়ং রজনীকান্ত। সাফ জানিয়ে দিলেন, বিজয়ের জনপ্রিয়তাকে তিনি বিন্দুমাত্র হিংসে করেন না, বরং তাঁর জন্য মনে মনে শুভকামনাই রয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রজনীকান্ত নিজের মনের কথা উজাড় করে দিয়েছেন। কড়া ভাষায় সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “অনেকে রটাচ্ছেন যে আমি নাকি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ওপর ঈর্ষান্বিত। এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” নিজের যুক্তি সাজিয়ে থলাইভা আরও যোগ করেন, “আমি যখন সক্রিয় রাজনীতিতেই নেই, তখন আমার হিংসে করার কোনও কারণ থাকতে পারে কি? তাছাড়া বিজয়ের চেয়ে আমি বয়সে প্রায় ২৫ বছরের বড়। আমাদের মধ্যে একটা আস্ত প্রজন্মের ব্যবধান রয়েছে। তাই এই ধরণের তুলনা একেবারেই অর্থহীন।” বিজয়ের প্রতি ভালোবাসা উজাড় করে তিনি বলেন, তাঁর কাছ থেকে মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে এবং তিনি বিজয়ের সাফল্য কামনা করেন।
তবে শুধু বিজয় নয়, তামিলনাড়ুর আরেক হেভিওয়েট নেতা এম কে স্ট্যালিনকে (MK Stalin) নিয়েও বড় বয়ান দিয়েছেন রজনীকান্ত। ভোটের ফল প্রকাশের পর স্ট্যালিনের সঙ্গে দেখা করায় নেটিজেনদের একাংশ থলাইভাকে ট্রোল করতে ছাড়েনি। সেই প্রসঙ্গে অভিনেতা স্পষ্ট করে দেন, “রাজনীতির ঊর্ধ্বে আমাদের এক গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে। কুলাথুর কেন্দ্রে স্ট্যালিনের পরাজয় আমাকে সত্যিই ভীষণ আঘাত করেছিল। রজনী এত সস্তা মনের মানুষ নয় যে পরিস্থিতি বুঝে আলটপকা মন্তব্য করবে।”
কথায় কথায় উঠে আসে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও। একটা সময় রজনীকান্তের রাজনীতিতে আসা নিয়ে তুমুল হইচই হয়েছিল, যদিও পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি পিছিয়ে যান। সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা মনে করে আক্ষেপের সুরে সুপারস্টার বলেন, “আমি যদি ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতাম, তবে নিশ্চিতভাবে জয়ী হতাম।” ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন থলাইভার এই বিস্ফোরক বয়ান নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রজনীকান্ত যেভাবে চড়া সুরে সমালোচকদের জবাব দিলেন, তাতে এটুকু স্পষ্ট যে বয়স বাড়লেও পর্দার বাইরের ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ ইমেজটা তিনি এখনও হারিয়ে ফেলেননি।