Bigg Boss Bangla Exclusive: এই ৩ কারণে বিগ বসের ঘরে জীতু কমল, বিগ বসের ঘরে ঢোকার আগে জানালেন অভিনেতা
Bigg Boss Bangla Jeetu Kamal: ঘরের ভেতরে পা রাখার ঠিক আগের মুহূর্তে টিভি নাইন বাংলাকে নিজের মনের কথা ও পরিকল্পনার কথা ফাঁস করেছেন জীতু। প্রথমে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও কেন শেষমেশ রাজি হলেন বিগ বসের চ্যালেঞ্জ নিতে? এর নেপথ্যে ৩টি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন অভিনেতা নিজেই।

রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’র অন্দরমহলে উত্তেজনা এখন মধ্যগগনে। গত সপ্তাহে ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী হিসেবে রাজবীর দে-র প্রবেশের পর থেকেই নিত্যদিন ভাঙছে খেলার সমীকরণ। তবে বিগ বস প্রেমীদের মতে, অন্দরের সেই বিতর্ক ও অশান্তির ঝড় এবার টর্নেডোর রূপ নিতে চলেছে। কারণ বিগ বসের ঘরে এবার ধামাকাদার এন্ট্রি নিতে চলেছেন জীতু কমল।
ঘরের ভেতরে পা রাখার ঠিক আগের মুহূর্তে টিভি নাইন বাংলাকে নিজের মনের কথা ও পরিকল্পনার কথা ফাঁস করেছেন জীতু। প্রথমে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও কেন শেষমেশ রাজি হলেন বিগ বসের চ্যালেঞ্জ নিতে? এর নেপথ্যে ৩টি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন অভিনেতা নিজেই।
কী বললেন জীতু?
প্রথম কারণ, বছরের শুরু থেকেই ‘বিগ বস’-এর তরফ থেকে প্রস্তাব ছিল জীতুর কাছে। প্রাথমিক পর্যায়ে না বললেও বহু মানুষের বারণই তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে দেয়। জীতু কমলের কথায়, “আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি—কোনও কিছু আমাকে খুব উত্তেজিতও করে না, আবার ডাউনও করে না। একটা নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্যই আসা। প্রথম দিকে যখন বহু মানুষ বলল ‘তুই যাস না’, তখন মনে হল এমন কী ব্যাপার রয়েছে যা নিয়ে সবাই ভয় পাচ্ছে বা অনিহা দেখাচ্ছে? সবাই যেটা চাইছে না, সেখানে কী আছে সেটা আমাকে জানতেই হবে!”
দ্বিতীয় কারণ, প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় হওয়ার দৌড়ে বিশ্বাসী নন জীতু। তবে ট্রফির চেয়েও দর্শকের ভালোবাসাকেই তিনি আসল পুরস্কার মনে করেন। জীতু বলেন, “আমি ট্রফি জিততে আসিনি, কিছু মানুষের মন জয় করতে চাই। এই কথাটা বিনয় করে বলছি না। আগাগোড়াই আমি সত্যের পথে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু শুধু সত্যের পথে দাঁড়ালেই হয় না, যখন মিথ্যা কিছু ঘটে তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে হয়। অসংখ্য মানুষের আশীর্বাদ আমার মাথায় রয়েছে, মানুষ আমার জন্য মন্দিরে পুজো দেয়। আর কী চাওয়ার থাকতে পারে?”
তৃতীয় কারণ, ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির ঊর্ধ্বে উঠে পুরো টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অর্থনৈতিক স্বার্থকেও নিজের অংশগ্রহণের বড় কারণ বলে মনে করছেন তিনি। জীতু জানান, “একটা শো হিট করার পেছনে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে জলসা ও এন্ডেমল টিমের মারাত্মক পরিশ্রম থাকে। এই শো সফল হলে পরের বছর আবার হবে, অন্য চ্যানেলেও কাজ বাড়বে এবং বহু টেকনিশিয়ান কাজ পাবেন। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ হবে, তাই কেন আমি এর জন্য লড়ব না?”
এর পাশাপাশি এক পরম মানবিক অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে জীতু যোগ করেন, “আমি জয়ী হলে পুরস্কারের অর্থের ৭৫ শতাংশ আমার ট্রাস্টে দেব। অনাথ শিশুদের জন্য একটা পরিবার তৈরি করতে চাই। বাকিটা নিজের পরিবারের জন্য তো লাগবেই।”
সবশেষে দর্শক ও অনুরাগীদের প্রতি অভিনেতা জীতু কমলের খোলামেলা বার্তা—“ইটস আ গেম, গেম হিসেবেই দেখবেন!” এখন দেখার, এই নতুন মানসিকতা ও প্রতিবাদী ব্যক্তিত্ব নিয়ে বিগ বসের ঘরের অন্যান্য প্রতিযোগীদের কীভাবে সামলান জীতু কমল।
