
রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চে তখন টানটান উত্তেজনা। কার ভাগ্য খুলবে আর কার মাথায় ঝুলবে এলিমিনেশনের খাড়া—তা নিয়ে যখন দর্শকরা বুঁদ, ঠিক তখনই এল এক অপ্রত্যাশিত খবর। দর্শকের ভোট বা ঘরের সদস্যদের অন্দরের সমীকরণ নয়, সম্পূর্ণ শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝপথেই থেমে গেল ঝিলম গুপ্তর ‘বিগ বস বাংলা’র সফর। শোয়ের ঘর ছেড়ে আচমকা বিদায় নেওয়ায় যেমন একচিলতে স্বস্তি ছিল পুজোর কদিন নিজের চেনা পরিবার ও বাড়িতে ফেরার আনন্দ, তেমনই অন্যদিকে ছিল এতদিন ধরে তৈরি হওয়া সুসম্পর্ককে ছেড়ে আসার তীব্র বেদনা।
হঠাৎ কী এমন হয়েছিল ঝিলমের?
শোয়ের অন্দরে ঝিলমের অসুস্থতার খবর চাউর হতেই দর্শকের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—ঠিক কী এমন শারীরিক জটিলতা দেখা দিল, যার জন্য মাঝপথেই ঘর ছাড়তে হলো তাঁকে? পরবর্তী সময়ে খোদ ঝিলমের বাবার কাছ থেকে আসল সত্যটা সামনে আসে। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই গলব্লাডারের পাথর বা ‘গলব্লাডার স্টোন’-এর সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। শো চলাকালীন একাধিকবার তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে তাঁকে শোয়ের ভেতর চিকিৎসকদের কঠোর তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় নির্মাতারা আর বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে চাননি। শেষমেশ চিকিৎসকদের পরামর্শেই মাঝপথে খেলা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয় তাঁকে।
বিগ বসের খেলা ছেড়ে ইতিমধ্যেই নিজের শহরে ফিরে এসেছেন ঝিলম। অনুরাগীদের আশ্বস্ত করে তিনি জানিয়েছেন, আগের থেকে এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন। চতুর্থীর দিন পাড়ার পুজো মণ্ডপে দাঁড়িয়ে নিজের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ঝিলম লিখেছিলেন—“ওগো মা, এসো মা, এই বাড়িতেও থাকতে এসো মা। ঘরে ফিরে এসেছি। একটু ভালো আছি।”
প্রিয় প্রতিযোগীর এই আবেগঘন পোস্ট দেখেই কমেন্ট বক্সে উপচে পড়ে শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসার বার্তা। প্রত্যেকেই তাঁর দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন। শোয়ের অন্দরে নিজের ক্ষুরধার লেখনী শক্তি ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে যেভাবে তিনি দর্শকের মন জয় করেছিলেন, তা সত্যিই বিরল। এমনকি ঝিলম ঘর ছাড়ার পরেও তাঁর লেখা গান গাইতে শোনা গিয়েছে দুর্নিবারের মতো শিল্পীকে। এভাবেই শোয়ের চৌহদ্দি পেরিয়েও দর্শকের হৃদয়ে নিজের পাকা আসন ঠিকই ধরে রেখেছেন ঝিলম গুপ্ত।