
কেরিয়ারের তিন দশক পেরিয়ে গেলেও কিছু নির্দিষ্ট গণ্ডি কখনও অতিক্রম করেননি কাজল। বিশেষ করে পর্দায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বা চুম্বনের ক্ষেত্রে তাঁর ছিল কড়া ‘নো-কিসিং পলিসি’। কিন্তু ২০২৩ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পা রাখতেই বদলে যায় সব হিসেব। ‘দ্য ট্রায়াল: পেয়ার, কানুন, ধোকা’ সিরিজে যিশু সেনগুপ্তের সঙ্গে তাঁর সেই বহুল চর্চিত চুম্বনের দৃশ্য কার্যত শোরগোল ফেলে দিয়েছিল নেটপাড়ায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই দৃশ্যটি নিয়ে মুখ খুললেন অজয়-ঘরণী। জানালেন, কাজটা মোটেও সহজ ছিল না তাঁর জন্য।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে কাজল অকপটে স্বীকার করেছেন যে, শ্যুটিং সেটে যাওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি প্রচণ্ড অস্বস্তিতে ছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি মানসিকভাবে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলাম না। যতক্ষণ না সেটে গিয়েছি, ততক্ষণ মনের মধ্যে একটা টানাপোড়েন চলছিল।” এমনকি শুটিং শুরুর মুহূর্তেও তিনি দ্বিধায় ছিলেন, সত্যিই কি চুমু খাবেন নাকি মাঝপথেই ‘কাট’ বলে বেরিয়ে আসবেন?
কেন ভাঙলেন ৩০ বছরের ব্রত?
প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, এত বছর পর কেন এই সিদ্ধান্ত? কাজল জানিয়েছেন, এটা স্রেফ সস্তার পাবলিসিটি বা চমক দেওয়ার জন্য ছিল না। গল্পের প্রয়োজনেই তিনি নমনীয় হয়েছিলেন। সিরিজে তিনি নয়নিকা সেনগুপ্তের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যার স্বামী (যিশু সেনগুপ্ত) একটি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। কাজল বলেন, “পুরো বিষয়টা চিত্রনাট্যের খাতিরে ছিল। সেই মুহূর্তে চরিত্রটা কী ভাবছে বা কী চাইছে, সেটা ফুটিয়ে তোলা জরুরি ছিল। এই দৃশ্যটি বাদ দিলে চরিত্রের গভীরতা নষ্ট হয়ে যেত।” অর্থাৎ, ব্যক্তিগত অস্বস্তির চেয়ে অভিনয়কেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
পেশাদার জীবনের এই সাহসী মোড় নিয়ে কাজল জানান, তিনি বরাবরই স্পষ্ট কথা বলতে ভালোবাসেন। কেরিয়ারের শুরুতে এই ঠোঁটকাটা স্বভাবের জন্য বিপাকেও পড়েছেন বহুবার, কিন্তু নিজের আদর্শ থেকে সরে আসেননি। তবে ‘দ্য ট্রায়াল’-এর ক্ষেত্রে তিনি অনুভব করেছিলেন যে, নিজের মত পাল্টানো দরকার।
সুপর্ণ ভার্মা পরিচালিত এই সিরিজে কাজল ছাড়াও অভিনয় করেছেন আলি খান এবং শিবা চাড্ডা। এটি জনপ্রিয় মার্কিন সিরিজ ‘দ্য গুড ওয়াইফ’-এর ভারতীয় সংস্করণ। বর্তমানে সিরিজটির দ্বিতীয় সিজন আসছে জিও হটস্টারে। পর্দার নয়নিকা যতই অস্বস্তিতে থাকুন না কেন, কাজলের এই ‘প্রফেশনাল কল’ কিন্তু দর্শকদের কাছে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে।