
পলাশ মুচ্ছল এবং স্মৃতি মান্ধানা, বিনোদন আর ক্রিকেটের সেই রূপকথার মতো প্রেমটা পূর্ণতা পাওয়ার ঠিক আগেই ভেঙে গিয়েছিল। সেই বিচ্ছেদের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আইনি প্যাঁচে জড়ালেন সঙ্গীত পরিচালক পলাশ মুচ্ছল (Palash Muchhal)। গত বছর নভেম্বর মাসে সাতপাকে বাঁধা পড়ার কথা ছিল তাঁদের, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিয়ের আসর থেকে হাসপাতালের বিছানায় ঠাঁই হয় দুজনেরই। শেষমেশ গত ডিসেম্বরে বিচ্ছেদের ঘোষণা করেন তাঁরা। তবে এবার লড়াইটা ব্যক্তিগত নয়, একেবারে আদালতের কাঠগড়ায়।
কেন হঠাৎ পলাশ মুচ্ছলের বিরুদ্ধে মামলা?
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের সাংলিতে সমাজকর্মী বিজ্ঞান মানে পলাশের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার (Atrocity Act) অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। বিজ্ঞানের দাবি, পলাশ তাঁকে ৪০ লক্ষ টাকা ঠকিয়েছেন এবং তাঁর জাতি তুলে কটু কথা বলেছেন। কিন্তু এই গোটা বিষয়টিকে ‘সস্তার পাবলিসিটি স্টান্ট’ বলে উড়িয়ে দিলেন পলাশের আইনজীবী শ্রেয়াংশ মিঠারে। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “ঘটনা যদি গত নভেম্বরের হয়, তবে অভিযোগ জানাতে মে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা কেন?”
আইনজীবীর পালটা চাঞ্চল্যকর দাবি
পলাশের আইনি পরামর্শদাতার দাবি, বিজ্ঞান মানে আসলে খবরে থাকার জন্যই এই সব করছেন। প্রথম দিকে তিনি শুধুমাত্র আর্থিক লেনদেনের কথা বললেও, এখন আচমকা তাতে ‘জাতিগত অবমাননার’ রঙ চড়িয়েছেন যাতে মামলাটি আরও জটিল হয়েছে। পলাশের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বেই বোম্বে হাইকোর্টে ১১ কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আদালত বিজ্ঞান মানেকে মিডিয়ার সামনে পলাশকে নিয়ে কোনও কুরুচিকর মন্তব্য না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই তিনি একের পর এক সাক্ষাৎকার দিয়ে চলেছেন বলে অভিযোগ।
নেপথ্যে কি স্মৃতি মান্ধানার যোগ?
আদালতে দুবার তলব করা হলেও বিজ্ঞান মানে সেখানে উপস্থিত হননি বলেই জানিয়েছেন আইনজীবী শ্রেয়াংশ। তাঁর মতে, মানহানির মামলা থেকে বাঁচতে বা পলাশকে আপস করতে বাধ্য করতেই এই নতুন অভিযোগের পাহাড় সাজানো হয়েছে। উল্লেখ্য, অভিযোগকারী নিজেকে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের তারকা স্মৃতি মান্ধানার বন্ধু বলে দাবি করলেও, পলাশের আইনজীবীর স্পষ্ট কথা— “ওঁর সঙ্গে স্মৃতির কী সম্পর্ক সেটা নিয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। তবে পলাশ কখনও সাংলিতে গিয়ে ওঁর সঙ্গে দেখাও করেননি।”
আসলে গত বছরের ২৩ নভেম্বর সাংলিতেই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল পলাশ ও স্মৃতির। কিন্তু সেই দিনই স্মৃতির বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং পলাশ নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ায় সব ভণ্ডল হয়ে যায়। এর কয়েকদিন পরেই বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন তাঁরা। এখন সেই পুরনো ক্ষতকেই কেউ খুঁচিয়ে সুবিধা নিতে চাইছে কি না, তা নিয়ে সরগরম বলিপাড়া।