
মেগাস্টার থেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে বিজয় (Vijay) গদিতে বসেই বড় চমক দিয়েছিলেন। তাঁর বিশেষ হস্তক্ষেপে সুরিয়া ও তৃষার নতুন ছবি ‘করুপ্পু’ (Karuppu)-র জন্য সকাল ৯টার বিশেষ শো-এর অনুমতি মিলেছিল। মনে করা হচ্ছিল, প্রশাসনিক এই আনুকূল্যে বক্স অফিসে রেকর্ড গড়বে এই বিগ বাজেট সিনেমা। কিন্তু খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিন সিগন্যাল থাকার পরেও, কার্যত দিশেহারা ছবির নির্মাতারা। কী ঘটেছিল?
ছবির প্রযোজনা সংস্থা ‘ড্রিম ওয়ারিয়র পিকচার্স’ (Dream Warrior Pictures) সূত্রে খবর, উত্তর ভারতের একাধিক সিনেমা হলে অনুমতি ছাড়াই ছবিটির প্রদর্শন শুরু হয়ে গিয়েছে। কারিগরি ভাষায় যাকে বলে KDM অ্যাক্টিভেশন, তা নাকি নির্মাতাদের চূড়ান্ত অনুমতি ছাড়াই করে ফেলেছে ‘কিউব সিনেমা টেকনোলজিস’। এর ফলে ছবিটির প্রিমিয়াম কোয়ালিটি দৃশ্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোটি কোটি টাকার এই প্রোজেক্ট মুক্তির আগেই এভাবে ‘ফাঁস’ হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত প্রযোজক এস আর প্রভুর।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি তামিল ফিল্ম প্রডিউসার্স কাউন্সিলে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে সিনেমা প্রদর্শনকারী সংস্থা কিউব-এর পক্ষ থেকে একে ‘ভুল’ বলে চালানোর চেষ্টা করা হলেও দমে যাননি প্রযোজকরা। তাঁরা সাফ জানিয়েছেন, ৩০০ কোটি টাকার বেশি বাজেটের এই ছবির ব্যবসায়িক ক্ষতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল এবং জানানো হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামে ছবির কোনও অংশ শেয়ার করলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী কঠোর শাস্তি হতে পারে। তবে ১৫ মে সমস্যার সমাধান মিলেছে কিছুটা, আইনি বিপাক কাটিয়ে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে তৃষার সুসম্পর্কের কারণেই এই ছবির বিশেষ শো-এর ছাড়পত্র মিলেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছিল উল্টো চিত্র। তামিলনাড়ুর অনেক জায়গায় শো বাতিল করতে হয়েছিল আইনি কারণে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ ব্যবস্থাও শেষ পর্যন্ত সাধারণ দর্শকদের হলের ভেতরে ঢোকাতে ব্যর্থ করেছিল। অবশেষে পেল মুক্তি। তবে পাইরেসির এই ধাক্কা কাটিয়ে সুরিয়া-তৃষার রসায়ন বক্স অফিসে কতটা ঝড় তুলতে পারে, সেটাই এখন দেখার।