‘আজ মনে হচ্ছে একবার যদি…’,মনোজ মিত্রের মৃত্যুর পর কী আক্ষেপ মাধবী মুখোপাধ্যায়ের?
Madhabi Mukherjee: সহকর্মীর অসুস্থতার খবর থাকলেও হাসপাতালে গিয়ে উঠতে পারেননি। মঙ্গলবার মনোজ মিত্র চলে যাওয়ার খবরে ডুকরে উঠল তাঁর মন। TV9 বাংলায় প্রয়াত অভিনেতার স্মৃতিচারণে ধরলেন কলম।

সুচরিতা দে ও বিহঙ্গী বিশ্বাস
বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্য়ায় মনোজ মিত্রের প্রয়াণের খবর শুনে ভেঙে পড়লেন। বয়স হয়েছে তাঁরও। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ। তাই সহকর্মীর অসুস্থতার খবর থাকলেও হাসপাতালে গিয়ে উঠতে পারেননি। মঙ্গলবার মনোজ মিত্র চলে যাওয়ার খবরে ডুকরে উঠল তাঁর মন। TV9 বাংলায় প্রয়াত অভিনেতার স্মৃতিচারণে ধরলেন কলম।
মাধবী মুখোপাধ্যায়
মনোজের সঙ্গে করা প্রথম ছবি ‘বাঞ্ছারামের বাগান’। সেখানে ওঁর অভিনয় দেখে আমি মোহিত হয়ে গিয়েছিলাম। এত অসাধারণ লেগেছিল যে, ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। ‘বোঝা’ বলে একটা ছবি করছিলাম আমরা। প্রায় আউটডোরে যেতে হতো। যেখানে পৌঁছতে চার-পাঁচ ঘণ্টা লাগত। সেখানে যাওয়ার পথে আমাদের অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো। মূলত বিষয় থাকত, বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন ভাষায় কী ধরনের নাটক হয়। সেই জায়গাটা আমার চলে গেল। ওঁর নাটক নিয়েই আমি একবার আমেরিকায় গিয়েছিলাম, অভিনয় করতে। দেবরাজ রায় সঙ্গে ছিল। দেবরাজও চলে গেল। খুব খারাপ লাগছে আমার। আমাদের নিজেদের করা কাজ নিয়ে খুব একটা আলোচনা হতো না। এটা না হয়ে ওটা করলে ভাল হতো, কখনও মনে হতো না। উনি এতটাই সফল একজন নাট্যকার, অভিনেতা, ফলে সেটা নিয়ে আর আলোচনার জায়গা থাকে না। কোনও প্রশ্ন ওঠে না। প্রশ্নের উর্ধ্বে ওঁর কাজ। সব সময় সেরাটা দিতেন। মঞ্চ থেকে যখন কোনও শিল্পী আসে, তখন তাঁর কাজের কোনও ফাঁক থাকে না।
খুব খারাপ লাগছে। আবার শুনেছি উনি অনেক দিন ধরে ভুগছিলেন। সেই খবরও পেয়েছিলাম। আমিও অসুস্থ ছিলাম, বেসরকারি হাসপাতালে একমাসের ওপর ভর্তি ছিলাম। ওঁর অসুস্থতার খবরটাও শুনেছি। তবে আমার বাড়ি থেকে সল্টলেক অনেকদূরে। সেই কারণে দেখতে যাওয়া হয়নি। খুব খারাপ লাগছে। আজ মনে হচ্ছে একবার দেখে আসতে পারতাম।
