
মমতা কুলকার্নি (Mamta Kulkarni)— নামটা শুনলেই নব্বইয়ের দশকের সেই গ্ল্যামার কুইনের কথা মনে পড়ে যায়। কিন্তু তিনি তো সব ছেড়েছুড়ে সন্ন্যাস নিয়েছিলেন, তাই না? তাহলে হঠাৎ এমন চেনা রূপে কেন? অনেকেই এই প্রশ্ন তুলছেন। সোশাল মিডিয়ায় তাঁর একটি নাচের ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই অবাক নেটপাড়া। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, স্টেজে জমিয়ে নাচছেন সেই পুরনো মেজাজের মমতা।
আসল ঘটনাটা ঠিক কী?
সম্প্রতি রাজস্থান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তাঁকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে তাঁরই পুরনো দিনের হিট গানগুলো বাজানো হচ্ছিল। ‘ঘাতক’ ছবির ‘কোয়ি যায়ে তো লে আয়ে’, ‘করণ অর্জুন’-এর ‘এক মুন্ডা মেরি উমর কা’ থেকে শুরু করে ‘সবসে বড়া খিলাড়ি’র ‘লম্বা লম্বা ঘোমটা’- একের পর এক চেনা গান শুনে তিনি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি। সোজা স্টেজে উঠে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে উদ্দাম নাচতে শুরু করে দেন। পরনের গ্ল্যামারাস পোশাক আর এই নাচ, দুটো মিলিয়েই নেটিজেনদের চমকে দিয়েছেন তিনি।
চমকে যাওয়ার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভে গিয়ে তিনি পুরোপুরি সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন। তখন তাঁর নতুন নাম হয় শ্রী যামাই মমতা নন্দ গিরি। কিন্নর আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বরও করা হয়েছিল তাঁকে। গেরুয়া বসন আর আধ্যাত্মিক জীবন বেছে নেওয়ার পর হঠাৎ এই রূপে তাঁকে দেখে অনেকেই তাজ্জব। নেটিজেনরা রীতিমতো মজার মন্তব্য করতে শুরু করেছেন। এক ব্যক্তি লিখেছেন, “ইনি তো সাধু হয়ে গিয়েছিলেন!” আরেকজনের কথায়, “মোক্ষ থেকে মায়ায় ফেরার উল্টো কনসেপ্ট।” তবে অনেকেই তাঁর এই পুরনো রূপের প্রশংসাও করেছেন।
মাঝের সময়টা অবশ্য অভিনেত্রীর জন্য একেবারেই সহজ ছিল না। প্রায় ২৪ বছর তিনি মুম্বইয়ের বাইরে ছিলেন। মাদক পাচার চক্রে নাম জড়ায় তাঁর। যদিও তিনি বারবার দাবি করেছেন যে তিনি নির্দোষ। অবশেষে ২০২৪ সালে বম্বে হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে চলা মামলা খারিজ করে দেয়। আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই।
মুম্বইয়ে ফেরার পর তিনি জানিয়েছিলেন, বলিউডে ফেরার কোনও ইচ্ছে তাঁর নেই। আধ্যাত্মিক পথেই তিনি চলতে চান। কিন্তু এই ভাইরাল নাচের ভিডিয়ো যেন বুঝিয়ে দিল, সিনেমা আর গানের প্রতি ভালোবাসা তাঁর মন থেকে কখনও মুছে যায়নি।