
দীর্ঘদিনের অশান্তি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, গ্রেফতারি, মামলা-মোকদ্দমা, শুটিং বন্ধ এবং একাধিক পরিচালক-অভিনেতাকে বয়কটের বিতর্কে গত কয়েক মাস ধরে তোলপাড় হয়েছে টলিপাড়া। সমস্ত জলঘোলা কাটিয়ে অবশেষে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পালা। আজ, শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে শুরু হয়েছে টেকনিশিয়ানদের বিভিন্ন গিল্ডের নির্বাচন, যা চলবে আগামী কাল, রবিবার (১ নভেম্বর) পর্যন্ত। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টলিউডের সাংগঠনিক কাঠামোয় এই প্রথম এত বড় মাপের নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে স্টুডিওপাড়ার অন্দরে এই ভোট ঘিরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে এবং অবাধে চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আজ সকালে সরাসরি টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে হাজির হন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর পরনে ছিল কালো রঙের পোশাক, মাথায় কালো টুপি, গলায় উত্তরীয়— একেবারে চিরচেনা লুকে স্টুডিয়োপাড়ায় পা রাখেন তিনি। স্টুডিয়োর বাইরে একটি সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে চায়ে চুমুক দিতে দিতে টিভি নাইন বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ফেডারেশনের নির্বাচন ও টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একরাশ ক্ষোভ ও আগামীর আশার কথা শোনান অভিনেতা।
টলিউডের পরিবেশ কি একসময় নষ্ট হয়ে গিয়েছিল? এই প্রশ্নের জবাবে মিঠুন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “খারাপ নয়, শেষ হয়ে গিয়েছিল! কেউ টলিউডে এসে কাজ করতেই চাইছিল না। সবাই বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিল। আমরা জীবনভর এখানে কাজ করেছি, আমাদের মধ্যে একটা মিষ্টি সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখানে একটা একনায়কতন্ত্র এসে গিয়েছিল। আমি কারও নাম নিয়ে আলাদা করে কিছু বলতে চাই না। কে কী করেছে, সেটা দেখার দরকার নেই। এখন যেটা হচ্ছে, তার উপর বিশ্বাস রাখুন।”
ভবিষ্যতের রূপরেখা ও ছবির বাজারের প্রসারের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “সরকার থেকে ৩০ শতাংশ সাবসিডি দেওয়া হচ্ছে। সবাই আসুন, যত খুশি ফিল্ম করুন। এতে প্রযোজকদের লাভ হবে। আর মাল্টিপ্লেক্সগুলিতে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা ছবি চালাতে হবে। আমরা গণতন্ত্র ও সংবিধান মেনেই এগোতে চাই।”
তবে সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে তৃণমূলকে একহাত নিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীর কঠোর হুঁশিয়ারি, “তৃণমূলের কোনও অংশের কোনও ধরনের বদমাইশি যদি আমি দেখি, তাহলে আমার থেকে খারাপ লোক আপনারা দেখেননি!”