
আশা ভোঁসলে- ভারতীয় সংগীত জগতের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম, যাঁর কণ্ঠের জাদুতে দশকের পর দশক বুঁদ হয়ে থেকেছে আসমুদ্রহিমাচল। গত ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি এই গায়িকা। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন দুনিয়া। তবে সুরসম্রাজ্ঞীর বিদায়ে যেন নিজের ব্যক্তিগত এক অভিভাবককে হারালেন সত্তর দশকের হার্টথ্রব অভিনেত্রী মুমতাজ। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে আশাজির সঙ্গে কাটানো এক অমূল্য মুহূর্তের ভিডিয়ো শেয়ার করে আবেগঘন বার্তা লিখলেন তিনি।
১৯৭৩ সালের সুপারহিট ছবি ‘লোফার’। সেই ছবিতে ধর্মেন্দ্রর বিপরীতে মুমতাজের সিগনেচার ড্যান্স আজও মানুষের চোখে ভাসে। গানটি ছিল ‘কই শহরি বাবু’। সেই কালজয়ী গানে প্লেব্যাক করেছিলেন স্বয়ং আশা ভোঁসলে। মুমতাজের শেয়ার করা পুরনো ভিডিয়োটিতে দেখা গিয়েছে, গানের তালে তালে পর্দায় যেভাবে মুমতাজ নেচেছিলেন, ঠিক সেইভাবেই অফ-ক্যামেরা আশাজির সঙ্গে পা মেলাচ্ছেন তিনি। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, নিজের গানে মুমতাজের সঙ্গেই তাল মেলানোর চেষ্টা করছেন খোদ আশা ভোঁসলে।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুমতাজ লিখেছেন, “আজ বড় একা লাগছে। একটা গভীর শূন্যতা অনুভব করছি। আশা ভোঁসলে জি শুধু একজন কিংবদন্তি কণ্ঠই ছিলেন না, পর্দায় আমার সেরা পারফরম্যান্সগুলোর নেপথ্যের আত্মা ছিলেন তিনি। তাঁর গান আমার অভিনয়ে প্রাণ সঞ্চার করত, যা কখনও ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।” অভিনেত্রী আরও জানান, আশাজির গলায় অভিনয় করতে পারাটা তাঁর কাছে কোনও আশীর্বাদের চেয়ে কম কিছু ছিল না। তাঁর জাদুকরী কণ্ঠই মুমতাজের চরিত্রগুলোকে চিরস্মরণীয় করে তুলেছে।
দীর্ঘ আট দশকের কেরিয়ারে আশা ভোঁসলে প্রায় ২০টি ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। ‘উমরাও জান’-এর ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ থেকে শুরু করে ‘ইজাজত’-এর ‘মেরা কুছ সামান’— তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একাধিক জাতীয় পুরস্কার। ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে এবং ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন তিনি।
মুমতাজের এই পোস্টটি দেখে ভক্তদের চোখেও জল। অভিনেত্রীর কথায়, “আশাজি নেই ঠিকই, কিন্তু তাঁর সুর আর কণ্ঠ আমাদের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।” সত্যিই তো, সুরের আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার অভাব হয়তো কোনও দিনও পূরণ হওয়ার নয়।