
গত ৮ অক্টোবর গোয়ায় নিজের বাসভবনে মাত্র ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর কারণ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। এবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হল।
কী বলছে রিপোর্ট?
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। চিকিৎসকদের মতে, নানা পাটেকরের বাঁ দিকের প্রধান করোনারি ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধে ব্লকেজ তৈরি হয়েছিল। এই নির্দিষ্ট ধমনীটি হৃৎপিণ্ডের একটি বড় অংশে রক্ত সরবরাহ করার কাজ করে। সেখানে হঠাৎ করে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই এই মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক হয়।
গত ৮ অক্টোবর গোয়ার দোনা পাওলার ফ্ল্যাটে হঠাৎই অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায় অভিনেতাকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা টানা ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর (CPR) দিয়ে তাঁকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। ভোরবেলা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
প্রাথমিক ভাবে এই মৃত্যুর পর গোয়া পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৯৪ নম্বর ধারায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়ায়, খুব দ্রুত এই মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
পুনে জেলার দোঞ্জে গ্রামে অভিনেতার নিজস্ব খামারবাড়িতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেখানে তাঁকে তিন গান স্যালুট দেওয়া হয়। বিনোদন দুনিয়ার বহু তারকা এবং মহারাষ্ট্রের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাঁর শেষযাত্রায় উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান। গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, থিয়েটার, হিন্দি এবং মারাঠি সিনেমা জুড়ে নানা পাটেকরের অভিনয় ভারতীয় চলচ্চিত্রে একটি বিশেষ ছাপ রেখে গিয়েছে।
‘পরিণ্যা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’ থেকে শুরু করে হালফিলের ‘ওয়েলকাম’— সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের স্মৃতিতে থেকে যাবে। রূপোলি পর্দার বাইরে তিনি বরাবরই এক শান্ত জীবন কাটাতে ভালোবাসতেন। কৃষকদের স্বার্থে তাঁর সমাজসেবামূলক কাজও উল্লেখযোগ্য। তাঁর ছেলে মল্লার পাটেকর সংবাদমাধ্যমের কাছে বাবার মৃত্যুর খবর প্রথম নিশ্চিত করেছিলেন।