
নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর থেকে বিতর্ক যেন থামছেই না। গত ৮ অক্টোবর গোয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন। এবার এই বিষয়ে নীরবতা ভাঙলেন নানা পাটেকরের ছেলে মল্লার পাটেকর। তনুশ্রীর নাম না করেই কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মল্লার। তিনি বলেন, “পুরনো বিষয় নিয়ে অযথা জলঘোলা হচ্ছে, তা অনেক আগেই আইনিভাবে শেষ হয়ে গিয়েছে।” তিনি কারও নাম উল্লেখ না করেই বলেন, “আদালত বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছে। কেস শেষ হয়ে গিয়েছে, তা সত্ত্বেও বারবার একই কথা বলা হচ্ছে। এই ধরনের মানুষদের বিশেষ কিছু বলার নেই। যেটা সত্যি, সেটা সবসময় সত্যি থাকবে। ভগবান ওঁর মঙ্গল করুন।”
‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তনুশ্রী দত্ত। তবে ২০১৯ সালের জুন মাসে মুম্বই পুলিশ আদালতে একটি ক্লোজার রিপোর্ট জমা দেয়। সেখানে জানানো হয়, নানার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই। এরপর ২০২৫ সালে আইনিভাবে এই মামলার পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তনুশ্রী। তাঁর অভিযোগ, কেন কোনও স্মরণসভার আয়োজন করা হল না? কেন বলিউড ইন্ডাস্ট্রি ও সংবাদমাধ্যমকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হল না? এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তনুশ্রীর দাবি, আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচতে নাকি নিজের মৃত্যুর নাটক করেছেন নানা! এমনকী, তিনি চেহারা বদলে থাকলে ডিএনএ (DNA) টেস্ট করারও পরামর্শ দেন তনুশ্রী। যদিও এই ধরনের মারাত্মক অভিযোগের সপক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে নানাকে ‘এভিল ডেড’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন তনুশ্রী। যার জেরে সোশাল মিডিয়ায় তাঁকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এরপর একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে নিজের মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি দেন তিনি। তনুশ্রী দাবি করেন, নানার মৃত্যু কখনওই অতীতের ঘটনাগুলোকে মুছে ফেলতে পারে না। নানাকে ‘স্যাডিস্ট’ ও ‘সাইকোপ্যাথ’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর কথায়, নানার মৃত্যু কোনও অলৌকিক ঘটনার চেয়ে কম নয় এবং দীর্ঘ যন্ত্রণার অবশেষে অবসান হল।
মৃত্যুর পর নানা পাটেকরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় পুণের ডোঞ্জে ফার্মহাউসে। সূর্যাস্তের পর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। এই গোটা পরিস্থিতির মাঝেই বাবার সম্মান রক্ষার্থে এবং পুরনো আইনি দিকটি তুলে ধরতে অবশেষে মুখ খুললেন ছেলে মল্লার।