
‘বিগ বস’ বাংলার প্রতিযোগী হিসেবে শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ছোট পর্দার পরিচিত মুখ, অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত। রিয়্যালিটি শো-র ঘরে তাঁর নানা পদক্ষেপ ও উপস্থিতির কারণে তাঁকে ঘিরে নিত্যদিনই বিতর্ক বা চর্চা তুঙ্গে থাকছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের জায়গায় যেন একের পর এক বিপদের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে। এবার জীবনের এক দুঃসংবাদ এল অভিনেত্রীর পরিবারে—প্রয়াত হলেন তাঁর ঠাকুমা মীরা দত্ত।
ঠাকুমা ছিলেন নন্দিনীর অত্যন্ত প্রিয় মানুষ। কিন্তু দুঃখের বিষয়, জীবনের এই কঠিন মুহূর্তে প্রিয়জনের পাশে থাকা বা তাঁকে শেষ দেখা দেখার সুযোগ পাননি তিনি। গত এক মাস ধরে বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে ‘বিগ বস’-এর ঘরে বন্দি রয়েছেন অভিনেত্রী। ফলে এই মুহূর্তে ঠাকুমার চলে যাওয়ার সংবাদ আদৌ তাঁর কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। বুধবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে দীর্ঘ দিন রোগে ভোগার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মীরাদেবী। সোশ্যাল মিডিয়ায় মায়ের প্রয়াণের খবর জানিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন নন্দিনীর বাবা সন্দীপ দত্ত।
এমনিতেই নন্দিনীর সময়টা বেশ কিছুদিন ধরে বেশ অম্লমধুর কাটছে। সম্প্রতি ঘরের ক্যাপ্টেন্সি টাস্কের খেলায় নন্দিনীর অসাবধানতার কারণে মারাত্মক চোট পান সহ-প্রতিযোগী অভিনেত্রী সৃজলা গুহ। চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে সৃজলাকে টানা পাঁচ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। যদিও সুস্থ হয়ে তিনি আবারও খেলায় ফিরে এসেছেন, তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় তীব্র রোষের মুখে পড়তে হয় নন্দিনীকে।
যদিও নেটপাড়ায় আক্রমণের জবাবে নন্দিনীর অনুরাগী ও পরিবার স্পষ্ট জানিয়েছে, অনভিপ্রেত এই দুর্ঘটনাটি একেবারেই অনিচ্ছাকৃত ছিল। খেলায় জেতার আবেগে অসাবধানতাবশত চোট লাগলেও এর পেছনে নন্দিনীর কোনও ক্ষতিকর উদ্দেশ্য ছিল না। সৃজলা শো-তে ফেরত আসার পর নন্দিনী নিজেও নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হন এবং তাঁর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি বারবার জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় কতটা যে ক্ষতি হতে পারে, তা তিনি মুহূর্তের মধ্যে বুঝতে পারেননি। একদিকে ট্রোলিং আর বিতর্কের চাপ, অন্যদিকে প্রিয় মানুষকে হারানোর অসীম ক্ষতি—সব মিলিয়ে ‘বিগ বস’-এর সফর চলাকালীন নন্দিনী দত্তের জীবনে নেমে এল এক গভীর শোকের ছায়া।