
নাহ, দুনিয়ার কাছে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায় ওরফে নায়ক হলেও, পাড়ার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সেই রাহুল। যে রাস্তায় পাড়ার লোকদের সঙ্গে দেখা হলে, আড্ডায় দাঁড়িয়ে পড়তেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে নানা উৎসবে মেতে উঠতেন। তা দুর্গাপুজো হোক কিংবা পাড়ার টুর্নামেন্ট। বিজয়গড়ের আট থেকে আশির সবার ডাকেই সারা দিতেন রাহুল। রবিবার সেই পাড়াতেই যখন পৌঁছল রাহুলের মৃত্যুর খবর, স্তম্ভিত সবাই। মেনেই নিতে পারছেন না, এমন শোকের খবর। দলে দলে ভিড় জমিয়েছেন রাহুলের বাড়ির সামনে। সত্য়িই কি তাঁদের প্রিয় রাহুল নেই!
রাহুলের প্রতিবেশীরা সবাই প্রায় রাহুলকে ছোট থেকে দেখেছেন। সবার মন জয় করেই রাখতেন তিনি। তাঁর স্পষ্টবাদী, সাহসী চরিত্রের জন্য পাড়াতেও দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। ক্রিকেট হোক বা ফুটবল, যেকোনও পাড়ার টুর্নামেন্টে ছুটে আসতেন। অংশ নিতেন। তখন রাহুল সিনেমার পর্দার হিরো নন, বরং পাড়ার রাহুলদা।
ইস্টবেঙ্গল ফুটবল দলের অন্ধভক্ত ছিলেন। ছিলেন আর্জেন্টিনারও দারুণ ফ্যান। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জেতার পর তো রাস্তায় বেরিয়ে সেলিব্রেশনে মেতে উঠেছিলেন আর পাঁচটা সাধারণ ছেলের মতোই। সেলিব্রিটি সুলভ আচরণ থেকে শতহস্ত দূরে থাকা সেই পাড়ার রাহুলকে হারিয়ে বিজয়গড় তাঁর পাড়া যেন আজ সারারাত জেগেই কাটাবে। আর ডুব দেবে সেই ছোটবেলা থেকে দেখা রাহুলের স্মৃতিচারণায়।
উল্লেখ্য, তালসারি বিচে জলে ডুবে প্রাণ হারালেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি ধারাবাহিকে শুটিংয়ের জন্য তালসারি গিয়েছিলেন অভিনেতা। রবিবার দুর্ঘটনার সময় অবশ্য শুটিং ছিল না। জলে নেমে তলিয়ে যান তিনি। তাঁকে উদ্ধার করে দিঘার হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। অভিনেতার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৩ বছর। রাহুলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিউড।