Anurag Kashyap arrest warrant: ব্রাহ্মণদের নিয়ে ‘কুৎসিত’ মন্তব্য! এবার চরম বিপাকে অনুরাগ কাশ্যপ, জারি জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা

Anurag Kashyap Brahmin controversy: ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে আইনি জট পাকালেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। গুজরাটের সুরাট আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। ঠিক কী ঘটেছিল? পড়ুন বিস্তারিত।

Anurag Kashyap arrest warrant: ব্রাহ্মণদের নিয়ে ‘কুৎসিত’ মন্তব্য! এবার চরম বিপাকে অনুরাগ কাশ্যপ, জারি জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা
ঠিক কী ঘটেছিল?

May 17, 2026 | 3:57 PM

বলিউডের ঠোঁটকাটা ও বিতর্কিত পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ (Anurag Kashyap) আবারও খবরের শিরোনামে, তবে কোনও সিনেমার জন্য নয়, একেবারে আইনি মারপ্যাঁচে জড়িয়ে। সমাজমাধ্যমে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে এক চরম আপত্তিকর মন্তব্য করার মাসুল এবার হাতেনাতে গুনতে হচ্ছে তাঁকে। এই ঘটনার জেরে গুজরাটের সুরাট আদালত বলিউড পরিচালকের বিরুদ্ধে সরাসরি জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা (Non-Bailable Warrant) জারি করেছে। সমন পাঠানোর পরেও আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় আইনি চাপ আরও বাড়ল ‘গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর’ খ্যাত এই পরিচালকের ওপর।

ঠিক কী বলেছিলেন অনুরাগ? বিতর্কের সূত্রপাত ঠিক কোথা থেকে?

ঘটনার সূত্রপাত গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে। মহারাষ্ট্রে মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলের জীবনীচিত্র ‘ফুলে’ (Phule) ছবির ঝলক বা টিজার মুক্তির পর থেকেই বিতর্ক দানা বাঁধে। ‘অল ইন্ডিয়া ব্রাহ্মণ সমাজ’ সহ বেশ কিছু গোষ্ঠী ছবিটির তীব্র বিরোধিতা শুরু করে। সেই সময় প্রতিবাদীদের একহাত নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি লম্বা পোস্ট দিয়েছিলেন অনুরাগ।

ঝামেলা বাড়ে সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সে। সেখানে এক নেটিজেনের কটাক্ষের জবাবে মেজাজ হারিয়ে অনুরাগ কাশ্যপ লিখে বসেন এক চরম বিতর্কিত মন্তব্য। তিনি লেখেন, “ব্রাহ্মণদের ওপর আমি প্রস্রাব করি। এতে কোনও সমস্যা আছে?” । ব্যাস! এই মন্তব্য দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে পরে অবশ্য তিনি ক্ষমা চেয়ে আরেকটি পোস্ট করেন এবং জানান যে রাগের মাথায় গোটা সম্প্রদায়কে আঘাত করে ফেলেছেন। কিন্তু জল ততক্ষণে অনেক দূর গড়িয়ে গিয়েছে।

সুরাট আদালতের কড়া নির্দেশ

এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সুরাটের বাসিন্দা তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা ও আইনজীবী কমলেশ রাভাল আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, অনুরাগের এই মন্তব্য কেবল একটি নির্দিষ্ট জাতির ভাবাবেগে আঘাত করেনি, বরং সমাজে জাতিগত বিদ্বেষ ও অশান্তি ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট।

নথিপত্র ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে সুরাটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্পষ্ট জানায়, এই ধরনের মন্তব্য সমাজে শান্তি নষ্ট করতে পারে। এর পরেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১৯৬ (বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা তৈরি), ৩৫২ (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে অপমান) এবং ৩৫৩(২) (ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তথ্য প্রচার) ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশ দেয় আদালত। বারবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও অনুরাগ দেখা না করায়, এবার তাঁর বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হল। যদিও পুলিশ কমিশনারের কাছে অনুরাগের তাৎক্ষণিক গ্রেফতারির যে আর্জি জানানো হয়েছিল, তা এই মুহূর্তে মঞ্জুর করা হয়নি।

একই ঘটনায় এর আগে মহারাষ্ট্রেও আশুতোষ জে দুবে নামে এক আইনজীবী উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস এবং মুম্বই পুলিশকে ট্যাগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সুরাট আদালতের এই কড়া পদক্ষেপ অনুরাগের আইনি অস্বস্তি যে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Follow Us