
হাত দেখে ভাগ্য গণনা করার কথা তো আমরা হামেশাই শোনেন। জীবনরেখা, হৃদয়রেখা বা ভাগ্যরেখা নিয়ে চর্চার শেষ নেই। কিন্তু কখনও কি নিজের কবজির দিকে খুব মন দিয়ে তাকিয়ে দেখেছেন? তালু যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকেই শুরু হচ্ছে কিছু সমান্তরাল রেখা। সমুদ্রশাস্ত্রে একে বলা হয় ‘ব্রেসলেট লাইন’ বা ‘রিস্ট লাইন’। প্রাচীন জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, আপনার হাতের এই রেখাগুলোই কিন্তু বলে দিতে পারে আগামীর অনেক গোপন কথা। স্বাস্থ্য থেকে সম্পদ, এমনকি আপনার কেরিয়ারের গ্রাফ কোন দিকে যাবে— তার অনেক ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকে এই ভাঁজগুলোর মধ্যেই।
কবজির ঠিক নিচে তালু ঘেঁষে যে প্রথম রেখাটি থাকে, সেটি মূলত আপনার শরীর-স্বাস্থ্যের খতিয়ান দেয়। জ্যোতিষবিশারদদের মতে, এই রেখাটি যদি খুব স্পষ্ট এবং গভীর হয়, তবে বুঝবেন আপনি যথেষ্ট সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। ছোটখাটো চোট-আঘাত বা রোগ আপনার খুব একটা ক্ষতি করতে পারবে না। কিন্তু এই রেখাটি যদি খুব আবছা বা ভাঙা হয়, তবে বুঝতে হবে শরীর নিয়ে মাঝেমধ্যেই নাজেহাল হতে হতে পারে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই প্রথম রেখাটি যদি ওপরের দিকে বাঁকানো বা অনিয়মিত হয়, তবে তাঁদের প্রজনন ক্ষমতা বা সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে আগাম সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞরা।
জীবন যুদ্ধে লড়াই তো সবাই করে, কিন্তু কার কপালে কতটুকু সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য জুটবে, তা নাকি বলে দেয় কবজির দ্বিতীয় রেখাটি। এই রেখাটি যদি কোনও কাটাছেঁড়া ছাড়া একদম সোজা এবং স্পষ্ট হয়, তবে জানবেন আপনার জীবনে অর্থাভাব হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। ধন-সম্পত্তি ও সামাজিক প্রতিপত্তি লাভের পথ আপনার জন্য প্রশস্ত। সহজ কথায়, আপনার বিলাসিতার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে এই দ্বিতীয় ভাঁজটিতেই।
তৃতীয় রেখাটি সাধারণত সবার কবজিতে ততটা স্পষ্ট থাকে না। তবে যাঁদের থাকে, তাঁদের কেরিয়ার নিয়ে খুব একটা চিন্তা করতে হয় না। এই রেখাটি আপনার সামাজিক প্রভাব এবং সাফল্যের সূচক। আর যদি সৌভাগ্যবশত এই তিন নম্বর রেখার ঠিক নিচেই সমান্তরালভাবে চার নম্বর একটি রেখা তৈরি হয়ে যায়? তবে তো সোনায় সোহাগা! জ্যোতিষশাস্ত্র মতে চার নম্বর রেখাটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। দীর্ঘায়ু এবং অভাবনীয় সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে এঁদের কখনও পিছু ফিরে তাকাতে হয় না।