Parambrata Chatterjee: ‘দাঁতে দাঁত চেপে আমি ক্ষমা চেয়েছি ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে’, রুদ্রনীলের পাশে বসে বিস্ফোরক পরমব্রত
Parambrata Chatteree on Politics of Tollywood Industry: এতদিন ধরে চলা টেকনিশিয়ান ও প্রযোজক, পরিচালকের মধ্যে যে দ্বন্ধ চলছিল, সেই দুপক্ষকেই মুখোমুখি বসিয়ে যেন সমস্য়ার সমাধানের পথ খোঁজা শুরু করে দিলেন টলিউডের রুডি। আর সেই বৈঠকেই রুদ্রনীলের পাশে বসে বিস্ফোরক মন্তব্য করে ফেললেন টলিউডের অভিনেতা, পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্য়ায়।

বিধানসভা নির্বাচনে জিতে আসার পর বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেছিলেন, টলিউডের অন্দর মহলের সমস্যা, অশান্তি, দলাদলিতে ইতি দিতে নতুন সরকার বিশেষভাবে উদ্যোগী। ঠিক তেমনই প্রস্তুতি যে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের হাত ধরে শুরু হচ্ছে, তা মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গেল বুধবার সন্ধ্য়ায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বিশেষ বৈঠকে। এতদিন ধরে চলা টেকনিশিয়ান ও প্রযোজক, পরিচালকের মধ্যে যে দ্বন্ধ চলছিল, সেই দুপক্ষকেই মুখোমুখি বসিয়ে যেন সমস্য়ার সমাধানের পথ খোঁজা শুরু করে দিলেন টলিউডের রুডি। আর সেই বৈঠকেই রুদ্রনীলের পাশে বসে বিস্ফোরক মন্তব্য করে ফেললেন টলিউডের অভিনেতা, পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানালেন, কেন এতদিন ধরে টলিউডের অন্দরে চলে আসা এই অরাজকতাকে মুখ বুজে মেনে নিচ্ছিলেন তিনি। পরমব্রতর কথায়, ‘দাঁতে দাঁত চেপে আমি ক্ষমা চেয়েছি ছেলের মুখে দিকে তাকিয়ে’।
এদিনের বৈঠকে ঠিক কী বলেছেন পরমব্রত?
পরমব্রত বলেন, ”আমি যে অধিকারে এখানে বসে কথা বলছি, আমার প্রাথমিক ধারণা, রুদ্র আর আমার ২৫ বছরের বন্ধুত্বের জন্য। রুদ্র ও আমার বন্ধুত্বের মধ্যে, যতটা বেশি বন্ধুত্ব রয়েছে, তার থেকে বেশি মতপার্থক্য রয়েছে। সেই মতপ্রার্থক্য কখনও ব্যক্তিগত, কখনও রাজনৈতিকও। কিন্তু আমরা এই বন্ধুত্বের মধ্যে কখনও রাজনীতি আসতে দিইনি। আমার মনে হয়, আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিতে সবার আগে এটাই করা দরকার। আমার মনে হয় যাঁরা যাঁরা ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে থাকবেন, তাঁদের রুজি- রুটি, তাঁদের প্রাথমিক পেশা যেন সিনেমা হয়। এটা সবার আগে হওয়া দরকার। কারণ একজন সিনেমাকর্মী, তিনি একজন শিল্পী হতে পারেন, কলাকুশলী হতে পারেন, পরিচালক হতে পারেন, প্রযোজক হতে পারেন, এমনকী, ডিস্ট্রিবিউটার ও একজিবিটার হতে পারেন, একমাত্র তিনি বা তাঁরাই বুঝতে পারে, সিনেমার কীভাবে বিবর্তন ঘটছে। শুধুমাত্র একটা রাজনৈতিক কারণে, যদি একটা সংগঠনের মাথার উপর কাউকে বসিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আজকে যে পরিস্থিতিটা আমরা দেখছি, সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন আবার হতে হবে। এই যে অনেকেই বলছেন, যে ২০১১ এর আগে আমরা খুব আনন্দে কাজ করতাম, তা আমিও স্বীকার করি। এই পরিবেশ আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। এখানে কেউ জয় বাংলা বলবেন, কেউ জয় শ্রীরাম বলবেন, কেউ বন্দে মাতরম বলবেন, কেউ লাল সেলাম বলবেন। কিন্তু সিনেমার কাজের সময় সেটা গুরুত্ব পাবে না।”
পরমের কথায়, ”২০২৪ থেকে ২০২৫ জুড়ে আপনারা সবাই জানেন, একটা বিরোধ, একটা লড়াই শুরু হয়েছিল। যে লড়াইয়ে আমি প্রথম সারিতেই ছিলাম। ক্রমাগত বোঝাতে চেয়েছিলাম যে আমরা, নন মেম্বার নিয়ে কাজ করার জন্যই লড়াইটা করছিলাম। আমরা বার বার প্রাক্তন মন্ত্রীদের বলেছিলাম ফেডারেশন, টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে বৈঠকে বসার সুযোগ দিন। শুধু কর্তাদের সঙ্গে নয়, যাঁদের সঙ্গে ২৫ বছর ধরে কাজ করি, তাঁদের সঙ্গে বসার সুযোগ দিন। আমাদের বসতে দেওয়া হয়নি। উল্টে অনেকেই যেমন জয়দীপদা (জয়দীপ মুখোপাধ্যায়), কৌশিকদা (কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়), সৃজিত ( সৃজিত মুখোপাধ্যায়) যখন কাজ শুরু করতে গিয়েছে, তখন তাঁদের সঙ্গে অসহযোগিতা করতে বাধ্য করা হয়েছে। সেই কারণেই আমরা বাধ্য হই আদালতে যেতে। তারপরও আপনাদের বোঝানো হয়, আমরা নাকি ফেডারেশন ভেঙে দেওয়ার জন্য়ই আদালতে গিয়েছি। ফেডারেশনটা আমাদেরও। আমরাও সদস্য।”
এরপরই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন পরমব্রত। তিনি স্পষ্ট জানান, এই মামলা করার কারণে টলিউডে অলিখিতভাবে ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছিলেন। ফলে কোনও কাজ পাচ্ছিলেন না। আর সেই সময়ই পরম ও স্ত্রী পিয়ার ঘরে আসে নতুন সদস্য, পরমের ছেলে। রুদ্রনীলের পাশে বসেই পরম জানান, ‘দাঁতে দাঁত চেপে আমি ক্ষমা চেয়েছি ছেলের মুখে দিকে তাকিয়ে’।” এদিন টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে হওয়া এই বৈঠকে রুদ্রনীলের ডাকে হাজির হয়েছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, প্রযোজক ফিরদৌসল হাসানের মতো ব্যক্তিত্বরা। এই বৈঠকেই গিল্ডের সদস্যরা স্বরুপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জানালেন রুদ্রনীল ঘোষকে।
কী বললেন রুদ্রনীল?
এদিনের বৈঠকে সবার অভিযোগ শুনে রুদ্রনীল বলেন, ”আমরা চারজন দায়িত্ব পেয়েছি সবার অসুবিধা শোনার জন্য। যথা জায়গায় আপনাদের মতামত পৌঁছে দেব। গুপি শুটিং বলে কিছু হয়ম না। রাজনৈতিক পরিচয় আলাদা হলেও তাঁদের প্রথম পরিচয় যেন টলিউডের মানুষ হিসেবে থাকে। কোনমতে শুটিং বন্ধ যেন না থাকে, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা মেটাতে হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নই। সমস্যা শুনে সঠিক জায়গা পৌঁছে দেব। আপনারা সমস্যা এবার লিখিত দিন। আগামী মাসে যেন নির্দিষ্ট নিয়মে ভোট হয় ফেডারেশনের। সেই কথা সাজেস্ট করব উপর মহলে। আমারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নই।”
