
সোজাসাপ্টা কথা বলতে তিনি কোনও দিনই পিছপা হন না। রুপোলি পর্দার ‘বাবুভাই’ হোক বা বাস্তব জীবন— পরেশ রাওয়াল বরাবরই ঠোঁটকাটা। তবে এবার নেটদুনিয়ার বিষাক্ত পরিবেশ নিয়ে যা বললেন অভিনেতা, তাতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াকে সরাসরি ‘নোংরা ফেলার পাত্র’ বা ‘আবর্জনার স্তূপ’ বলে দাগিয়ে দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, নেটিজেনদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।
কেন ক্ষুব্ধ পরেশ?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরেশ জানান, বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এমন এক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যেখানে মানুষ কিছু লেখার আগে দ্বিতীয়বার ভাবে না। তিনি বলেন, “আমার মতে সোশ্যাল মিডিয়া এখন কেবল নেতিবাচকতা উগরে দেওয়ার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার যা মনে আসছে, বলে দিচ্ছে। এটা মোটেও হওয়া উচিত নয়।” অভিনেতার মতে, কারও ব্যক্তিগত জীবন বা পেশা নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই। কেউ ভুল করলেও তাকে জনসমক্ষে অপমান করা বা তার ভাবমূর্তি নষ্ট করা অনুচিত।
অন্যকে নিয়ে বলার পাশাপাশি পরেশ রাওয়াল নিজের খামতিগুলোও মেনে নিয়েছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, “আমি নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা করছি। কথাগুলো বলছি ঠিকই, কিন্তু জানি আমি নিজেও খুব সামান্যই করতে পেরেছি।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রেগে গেলেও তিনি কখনও শব্দচয়ন বা ব্যবহারের মাত্রা ছাড়ান না। তাঁর কথায়, “সোশ্যাল মিডিয়া ইতিবাচকতা ছড়ানোর একটা দারুণ মাধ্যম হওয়া উচিত ছিল। যদি সেখানে কেবল নেতিবাচকতা থাকে, তবে তা থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।”
পরেশ রাওয়ালের এই মন্তব্য কিন্তু হঠাৎ করে আসেনি। এর নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি বিতর্ক। ‘ধুরন্ধর’ ছবিটিকে কেন্দ্র করে একজন আরজে (RJ) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিদ্রূপাত্মক ভিডিয়ো শেয়ার করেছিলেন। তাতে পরেশ মেজাজ হারিয়ে ওই আরজেকে ‘স্টুপিড রিপোর্টার’ বলে আক্রমণ করেন। পাল্টা জবাবে ওই আরজে মনে করিয়ে দেন যে তিনি সাংবাদিক নন এবং অভিনেতার বাস্তব জীবনের সঙ্গে তাঁর অভিনয় জীবনের কোনও মিল নেই।