
বাংলাদেশি অভিনেত্রী পরীমণি (Pori Moni) ফের আইনি জটে। পাঁচ বছর ধরে চলা ঢাকা বোট ক্লাব কাণ্ড যেন কোনও ভাবেই পিছু ছাড়ছে না তাঁর। বুধবারই তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। আর বৃহস্পতিবার সকালেই জামিন পেতে আদালতের দ্বারস্থ হন অভিনেত্রী। কখনও শুটিংয়ের চাপ, আবার তার মাঝেই আদালতের চক্কর, সব মিলিয়ে রীতিমতো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাঁকে, এমনটাই দাবি পরীমণির।
কেন জারি হল পরোয়ানা?
ব্যবসায়ী নাসিরুদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় বুধবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক ছিল। কিন্তু পরীমণি আদালতে উপস্থিত হননি। তাঁর আইনজীবীর দাবি ছিল, অ্যালার্জির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অভিনেত্রী। তাই তাঁর একটু সময় চাই। কিন্তু বিপক্ষের আইনজীবী এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, পরীমণি ইচ্ছে করেই আদালতে আসছেন না। এরপরই আদালত সময়ের আবেদন খারিজ করে দেয়। পরীমণির জামিন বাতিল করে সরাসরি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন বিচারক।
এই প্রথম নয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসেও একই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সেবারও পরের দিন তিনি আদালতে গিয়ে জামিন পান। বারবার এই আইনি জটিলতায় রীতিমতো তিতিবিরক্ত অভিনেত্রী। তিনি বাংলাদেশের এক সংবাদমাধ্যকে জানিয়েছেন, এই মামলার জেরে তাঁর কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রবল চাপ তৈরি হচ্ছে। তাঁর কথায়, “এটা কি সারা জীবন চলবে? কাজের জায়গায়, সংসারে, সবকিছুর ওপর একটা চাপ পড়ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই মামলার তদন্ত ঠিক মতো হচ্ছে না।
বোট ক্লাবের সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের জুন মাসে। ঢাকার সাভারের বোট ক্লাবে যান পরীমণি। মামলার বাদী নাসিরুদ্দিনের অভিযোগ, সেখানে পরীমণি বিনামূল্যে একটি দামি মদের বোতল দাবি করেন। তা দিতে না চাওয়ায় তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। এমনকি তাঁর দিকে কাচের গ্লাস ও মোবাইল ছুড়ে মারেন অভিনেত্রী। এতে নাসিরের মাথা ও বুকে চোট লাগে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পরই নাসিরুদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার পাল্টা মামলা করেছিলেন পরীমণি। সেই মামলারও বিচার চলছে। অর্থাৎ, একই ঘটনায় তিনি একদিকে বিচারপ্রার্থী, অন্যদিকে অভিযুক্ত। পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (PBI) তদন্ত করে জানিয়েছে, পরীমণির সঙ্গে তাঁর এক সঙ্গীর বিরুদ্ধেও মারধরের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। আপাতত বৃহস্পতিবার আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছেন পরীমণির ভক্তরা।