Pranit More Controversy: মৃত পুরুষের যৌনাঙ্গ মাপা থেকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে শয্যাসঙ্গী! এই কমেডিয়ানের শো ঘিরেই এত বিতর্ক কেন?
Standup comedy crowd work viral video: শুরুর দিকে ক্ষোভের তির কেবল এক দর্শকের মন্তব্যের দিকে থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিতর্ক রূপ নিয়েছে এক বৃহত্তর দ্বন্দ্বে। নারীবিদ্বেষ, সম্মতি , সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমন কুরুচিকর মন্তব্যে একজন কমেডিয়ানের ভূমিকা ঠিক কী হওয়া উচিত—তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে।

কমেডিয়ান তথা ‘বিগ বস ১৯’-এর প্রতিযোগী প্রণীত মোরের একটি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো-এর ‘ক্রাউড-ওয়ার্ক’ ক্লিপ সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুরুর দিকে ক্ষোভের তির কেবল এক দর্শকের মন্তব্যের দিকে থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিতর্ক রূপ নিয়েছে এক বৃহত্তর দ্বন্দ্বে। নারীবিদ্বেষ, সম্মতি , সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমন কুরুচিকর মন্তব্যে একজন কমেডিয়ানের ভূমিকা ঠিক কী হওয়া উচিত—তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে।
ঠিক কী ঘটে?
গুরুগ্রামে প্রণীত মোরের ওই শো চলাকালীন হিমাংশু জাঙ্গরা নামের এক দর্শক তাঁর ডেটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছিলেন। ভাইরাল হওয়া ওই ক্লিপে হিমাংশু দাবি করেন, একটি ডেটে গিয়ে তিনি ৩৭০ টাকা খরচ করে এক প্লেট চিকেন বিরিয়ানি খাইয়েছিলেন এবং সেই কারণেই ওই মহিলার কাছ থেকে তিনি শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ‘প্রত্যাশিত’ বলে ধরে নেন। তিনি বলেন, “আমি ভাবলাম ৩৭০ টাকা যখন লেগেইছে, তখন উসুল তো করবই।” অর্থাৎ, স্রেফ খাবারের বিল মেটানোর কারণেই তিনি ওই মহিলার ওপর নিজের শারীরিক অধিকারের দাবিদার বলে মনে করেছিলেন।
ভিডিওটি প্রকাশ্য আসতেই নেটপাড়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর উরফি জাভেদ তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এই ক্লিপটি শেয়ার করে একে “নিন্দনীয়” বলে আখ্যা দেন। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, এমন আপত্তিকর মন্তব্যের পরেও কেন প্রণীত বা হিমাংশু কেউই সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করলেন না।
मिलिए डॉ॰ सेजल पवार से, जिन्होंने आरजे प्रणित के लाइव कॉमेडी शो (क्राउडवर्क) में “डेड बॉडी जोक” पर विवाद के बाद अपना माफीनामा जारी किया l
जब प्रणित ने उनसे मेडिकल प्रोफेशन को लेकर सवाल किए, तो डॉ. सेजल ने हंसते हुए बताया,
वे और उनके साथी डॉक्टर्स मेडिकल की पढ़ाई के लिए आने… pic.twitter.com/zLLJP0sRGY
— Vishal Mohan Yadav (@VishalMYadav_) June 11, 2026
চাপে পড়ে ২ জুন ইনস্টাগ্রামে একটি বিবৃতি জারি করেন কমেডিয়ান প্রণীত মোরে। তিনি জানান, ওই দর্শকের মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত চিন্তাধারার পরিপন্থী। প্রণীত লেখেন, “হাসি-ঠাট্টা করে এড়িয়ে যাওয়ার বদলে আমার তখনই ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। এটি আমার বিচারবুদ্ধির চরম ভুল।” তিনি সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার কথাও জানান। অন্যদিকে হিমাংশু জাঙ্গরাও ক্ষমা চেয়ে বলেন, কোনও লিঙ্গকেই অপমান করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না, তাঁর মন্তব্যটি অত্যন্ত অবিবেচকের মতো হয়েছে।
বিতর্ক এখানেই থামেনি। ৮ জুন গুরুগ্রামের সংস্থা ‘স্টারভিক ডিজাইন’ (Starvik Design) তাদের কর্মী হিমাংশু জাঙ্গরাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ঘোষণা করে। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা বিবেক বিশ্বকর্মা জানান, ভাইরাল ভিডিওর জেরে তাঁদের কাছে শত শত বার্তা ও ইমেল আসছিল। হিমাংশুর মন্তব্য কোম্পানির আদর্শের পরিপন্থী। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন যে, এর আগে অফিসের কোনও মহিলা কর্মী হিমাংশুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। এই বরখাস্তের পর নেটদুনিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একাংশের মতে, এমন বিকৃত মানসিকতার উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে; অন্য অংশের প্রশ্ন—কর্মক্ষেত্রের বাইরের কোনও আচরণের জন্য কি চাকরি কেড়ে নেওয়া যুক্তিযুক্ত? এরই মধ্যে প্রণীত মোরের মূল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় জল্পনা আরও বাড়ে।
১০ ও ১১ জুন শো-এর একটি দীর্ঘতর ভিডিও সংস্করণে দেখা যায়, হিমাংশু অত্যন্ত কদর্যভাবে বর্ণনা করছিলেন কীভাবে তিনি ওই মহিলাকে জোরপূর্বক স্পর্শ ও ঘনিষ্ঠ হতে বাধ্য করেছিলেন, আর সেই সময় মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রণীত হাসছিলেন এবং দর্শকেরা হাততালি দিচ্ছিলেন। পূর্বের ভিডিওর চেয়েও এটি ছিল আরও বেশি নিন্দনীয়।
ঠিক এই সময়েই ওই একই শো-এর আরও একটি ক্লিপ ভাইরাল হয়। সেখানে ডঃ সেজল পাওয়ার নামে এক মহিলা দর্শককে অ্যানাটমি ক্লাসে মৃত পুরুষের (ক্যাডাভার) যৌনাঙ্গের আকার তুলনা করা নিয়ে চটুল মন্তব্য করতে শোনা যায়। এই ভিডিওটি নিয়েও চিকিৎসকমহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেজলও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে নেন।
এই ঘটনার পর ১১ জুন জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) কমেডিয়ান প্রণীত মোরে ও হিমাংশু জাঙ্গরাকে সমন পাঠায়। কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর হরিয়ানার পুলিশ প্রধানকে (DGP) চিঠি লিখে সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কমিশনের মতে, এই ভিডিওতে যৌন হয়রানি এবং সম্মতিহীন শারীরিক সম্পর্ককে একপ্রকার উদযাপন করা হয়েছে।
একই দিনে মুম্বাইয়ের নোডাল সাইবার থানা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩ এবং তথ্য প্রযুক্তি আইন (IT Act) ২০০০-এর অধীনে প্রণীত মোরে, হিমাংশু জাঙ্গরা এবং ডঃ সেজল পাওয়ারের বিরুদ্ধে ইন্টারনেটে অশ্লীল ও আপত্তিকর বিষয়বস্তু ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
সহজ কথায়, ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা দাবি করার মধ্য দিয়ে নারীর ‘সম্মতি’ বা ‘কনসেন্ট’-কে সস্তা পণ্যের স্তরে নামিয়ে আনার মানসিকতাই এই বিতর্কের মূল আগুন। প্রাথমিক ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা এখন দেশের বিনোদন জগৎ, আইনি পরিধি এবং লিঙ্গসাম্যের অধিকার নিয়ে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। এর আগে বছরের শুরুতে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান সময় রায়নাও এক ডিজিটাল শো-তে কুরুচিকর মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। রসিকতার সীমা ঠিক কতখানি আর দর্শকদের সহনশীলতার লক্ষণরেখাই বা কোথায়—প্রণীত মোরের এই ঘটনা তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিল।
