AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

‘সহজের মাকে আর হারাতে চাই না’, আজ কথাগুলো খুব মনে পড়ছে

হয়তো অনেক বন্ধুকেই রাহুল (অরুণোদয়) এই লাইনটা বলত, ''সহজের মাকে আমি হারাতে চাই না আর...''। বাংলা সিনেমায় আসা মধ্যবিত্ত পরিবারের দু' জন ছেলেমেয়ে। রাহুল আর প্রিয়াঙ্কা। রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় প্রথম সিনেমাতেই দুরন্ত উত্থান। দুই তারকার জন্ম হল। আর তখন থেকেই মন গলানো প্রেমের শুরু। তীব্র প্রেম। বহু বাঁধাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রেম। শোনা যায় সেই সময়ে প্রিয়াঙ্কা, রাহুলের মন্দ লাগুক, এমন কিছু করতে রাজি হতেন না। দারুণ একটা ছবি করার সুযোগ ছেড়ে দিয়েছিলেন তার জন্য।

'সহজের মাকে আর হারাতে চাই না', আজ কথাগুলো খুব মনে পড়ছে
| Updated on: Mar 30, 2026 | 11:48 AM
Share

হয়তো অনেক বন্ধুকেই রাহুল (অরুণোদয়) এই লাইনটা বলত, ”সহজের মাকে আমি হারাতে চাই না আর…”। বাংলা সিনেমায় আসা মধ্যবিত্ত পরিবারের দু’ জন ছেলেমেয়ে। রাহুল আর প্রিয়াঙ্কা। রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় প্রথম সিনেমাতেই দুরন্ত উত্থান। দুই তারকার জন্ম হল। আর তখন থেকেই মন গলানো প্রেমের শুরু। তীব্র প্রেম। বহু বাঁধাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রেম। শোনা যায় সেই সময়ে প্রিয়াঙ্কা, রাহুলের মন্দ লাগুক, এমন কিছু করতে রাজি হতেন না। দারুণ একটা ছবি করার সুযোগ ছেড়ে দিয়েছিলেন তার জন্য।

তাঁদের সম্পর্ক ঘিরে টলিপাড়ায় রাজনীতি কিন্তু বিস্তর হয়েছে। রাহুল সে রাজনীতি পছন্দ করতেন না। তবে তাঁর সেন্স অফ হিউমারের সঙ্গে রাজনীতি মিশে যেত। বলতেন, ”উলালা আই লাভ ইউ মাই সোনিয়া…” নাকি ভারতের একমাত্র গান, যাতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-সোনিয়া আছে।

রাহুল আর আমার সম্পর্ক একেবারে সাংবাদিক আর অভিনেতার পেশাদার আদানপ্রদানের। কিন্তু তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি করে ঢুকে পড়ল রাহুল-প্রিয়াঙ্কার প্রেম। আমি থাকি গল্ফ গ্রিনে। গল্ফ গ্রিনের উদয় সদনে বেশ ধুমধাম করে দু’ জনের বিয়ের আসর জমেছিল। বেশ কিছু বছর পর হঠাত্‍ রাহুলের ফোন। কত নম্বর যেন, মনে পড়ছে না ঠিক আজ, বিবাহবার্ষিকীতে প্রিয়াঙ্কাকে প্রেমপত্র লিখবে। তখন একটি কাগজের অফিসে কাজ করি। সেই কাগজে প্রকাশিত হয়েছিল প্রেম পত্রটি। রাহুল শব্দ নিয়ে খেলতে ভালোবাসত। তাঁর প্রেমের প্রকাশ তাই ছিল চিঠিতে। গল্ফ গ্রিন সেন্ট্রাল পার্কে এসে হন্তদন্ত হয়ে লেখা দিয়ে গেল। লেখাটা নাকি পারফেক্ট হতে একটু বেশি সময় লেগেছিল সেদিন।

যে দু’ জনের এমন তীব্র প্রেম, তাঁরা আবার বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে পারে, কে ভেবেছিল! কিন্তু তীব্র রাগ, ক্ষোভ কোনও কিছুর কমতি হয়নি একটা সময়ে। অথচ তখন ছেলে সহজ তাঁদের জীবনে এসে গিয়েছে। সে অধ্যায় বেশ জটিল। অনেক স্তর। রাহুল-প্রিয়াঙ্কা যখন আইনি লড়াই লড়ছে একে-অপরের বিরুদ্ধে, তখন চারপাশে আমাদের মন ভেঙে যেত। আমরা ভাবতাম, এরা ‘বড়’ হবে কবে? সেই যে ছোটবেলায় আবেগপ্রবণ হয়ে একে-অপরের হাত ধরল, তেমন করেই আর একবার কি দু’ জনে হাত ধরবে না?

এরপর একদিন যেমন চাওয়া, তেমন পাওয়া। সহজকে মাঝে নিয়ে ছবি পোস্ট করলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা। আইনি লড়াই-টড়াই থামল। আইনজীবীরাও মনে হয়, আমাদের মতো খুশি হয়েছিলেন। যখন রাহুল-প্রিয়াঙ্কার নতুন জোটের স্টোরি ব্রেক করি, সেদিন কিন্তু মুখ খোলেননি দু’ জনে। কিন্তু আমার মন বলছিল, সব কিছু ভালো হবে।

ক্রমশ বিষয়টা জানল সকলে। টলিপাড়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল সেই খবরে। তারপর যখন রঙের উত্‍সব এলো, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে বললাম, সহজকে নিয়ে দোল খেলার একটা শুটিং করব। সেদিন প্রিয়াঙ্কা-রাহুল দু’ জনে সাদায় সেজেছিল। প্রিয়াঙ্কার বাড়ির বাগানে শুটিংটা হয়েছিল। রাহুলকে কচুরি আর জিলিপি না খাইয়ে ছাড়েনি  সে! আর সহজ ভারি মজা করছিল রাহুলের সঙ্গে…

সেই যে মিল হল, রাহুল মাঝেমাঝেই মজা করে বলত, ”সহজের মাকে আমি হারাতে চাই না আর…”। এই তো ‘সত্যি বসে সত্যি কিছু নেই’ ছবির মুক্তির সময়ে একটা পিকনিক হয়েছিল। বাসে রাহুল ফোনের ডিসপ্লে পিকচার দেখাল। দেখি, দোলের সেই শুটিংয়ের ছবিটা!

‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির শেষে বিচ্ছেদেই যেন প্রেম পূর্ণতা পায়। আজও কি সেটাই ভেবে সান্ত্বনা দেব নিজেকে?

Follow Us