‘বিয়াল্লিশ তো যাবার বয়সও না…’, ৮ বছর আগেই নিজের মৃত্যু দেখতে পেয়েছিলেন রাহুল?

গোটা বিজয়গড়, রাহুলের পাড়া শোকস্তব্ধ। রবিবার রাতের মতো, সোমবার সকাল থেকেই রাহুলের বাড়িতে আসছেন টলিউডের সেলিব্রিটিরা। পাড়ার মানুষ তাঁদের প্রিয় বাবিনকে দেখতে ঠায় দাঁড়িয়ে রাস্তায়। আর অন্যদিকে, চিরঘুমে চিরদিনের নায়ক।

বিয়াল্লিশ তো যাবার বয়সও না...,  ৮ বছর আগেই নিজের মৃত্যু দেখতে পেয়েছিলেন রাহুল?

|

Mar 30, 2026 | 2:51 PM

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নিথর দেহ তমলুক থেকে কলকাতায় আসছে। সঙ্গে তাঁর স্কুলের বন্ধুরা। গোটা বিজয়গড়, রাহুলের পাড়া শোকস্তব্ধ। রবিবার রাতের মতো, সোমবার সকাল থেকেই রাহুলের বাড়িতে আসছেন টলিউডের সেলিব্রিটিরা। পাড়ার মানুষ তাঁদের প্রিয় বাবিনকে দেখতে ঠায় দাঁড়িয়ে রাস্তায়। আর অন্যদিকে, চিরঘুমে চিরদিনের নায়ক।

অভিনয়ের পাশাপাশি বরাবরই লিখতে পছন্দ করতেন রাহুল। কবিতা থেকে প্রবন্ধ, তাঁর লেখনিতে শব্দ যেন জলের মতো ভেসে বেড়াত সাদা কাগজে। তাঁর কাছে কঠিন কথা গুলোও সহজ হয়ে যেত। এই সহজ মানুষটাকেই হারিয়ে যেন, পাথরের মতো কঠিন হয়ে গিয়েছে, তাঁর অনুরাগীরা। ঠিক সেই সময়ই সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হল, ২০১৮ সালে রাহুলের একটি লেখা। যা তিনি লিখেছিলেন আর্টিস্ট ফোরামের বাতায়ন পত্রিকায়। যে লেখার শুরুতেই ছিল মৃত্যুর কথা। মৃত্যুর পর, আত্মা দেহ থেকে বেরিয়ে মেপে নিচ্ছে তাঁর চারপাশ। কলমে সেই ছবিই যেন তুলে ধরেছিলেন রাহুল। লেখার নাম দিয়েছিলেন ‘বান্ধবীরা’।

বাতায়ন পত্রিকায় লেখা রাহুলের এই প্রবন্ধের শুরুটাই গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো। যেন এক অদ্ভুত সমাপতন। রাহুল লিখেছিলেন, ”মৃত্যুর পর নিজেকে বেশ রাজকীয় লাগছে আমার। এমনিতেই মৃত্যুটা বেমক্কা হয়েছে। পাড়ার দুর্গাপুজোর ভাসান ছিলো। শেষ সিঁড়িটা মিস করেছি। বিয়াল্লিশ তো যাবার বয়স নয়… ।”

রাহুল তাঁর এই লেখায় প্রতিটা লাইনেই মৃত্যু ও মৃত্যুর পরবর্তীর কথা লিখেছিলেন। লিখেছিলেন, সেই জলে ডুবে মৃত্যুর কথাও। তাহলে কি রাহুল ২০১৮ সালেই নিজের মৃত্যুকে অনুভব করেছিলেন এই লেখার মধ্যে দিয়ে? প্রবন্ধের মতো এতটাই সত্যি তাঁর এই অসময়ে অস্ত যাওয়া! অবাক করছে নেটপাড়াকে। অবাক করছে, এই প্রবন্ধের যিনি ছবি এঁকেছেন সেই কলুদাকেও। যিনি তাঁর সোশাল মিডিয়া পেজ থেকে শেয়ার করেছেন রাহুলের এই প্রবন্ধটা। যেখানে রাহুল আগে থেকেই যেন দেখতে পেয়েছিলেন তাঁর মৃত্যু। জলে ডুবে মৃত্যু।

 

Follow Us