
বিগ বসের ঘরের অন্দরে নাটকীয়তার শেষ নেই। প্রতিমুহূর্তে বদলে যাওয়া সমীকরণে এবার বড়সড় টুইস্ট আনলেন রাজবীর। ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও নিজের আগের কথা রাখতে রাজবীর স্বেচ্ছায় সেই মুকুট তুলে দিলেন দুর্নিবারের হাতে। শো-এর শুরু থেকেই যিনি ক্যাপ্টেন হওয়ার জেদ ধরে বসেছিলেন, তাঁর এমন আত্মত্যাগী সিদ্ধান্ত দেখে যেমন অভিভূত ঘরের একটা বড় অংশ, তেমনই এর নেপথ্যে অন্য কোনও চাল দেখছেন কেউ কেউ।
প্রথম দিন থেকে রাজবীরের একটাই ইচ্ছে ছিল—বিগ বস হাউসের ক্যাপ্টেন হওয়া। কিন্তু নিয়তির ফেরে যখন জয়ের মুহূর্ত এল, তখন তিনি নিজের জেদ বিসর্জন দিয়ে পুরনো কথা রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিলেন। দুর্নিবারকে ক্যাপ্টেন ঘোষণা করতেই ঘরের বাকিরা রাজবীরের সততা ও বড় মনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।
তবে চিত্রনাট্য এত সহজে সরল পথে হাঁটে না! সৃজলা সরাসরি মুখের ওপর জানিয়ে দেন, রাজবীরের এই মহানুভবতার পেছনে পাকা কোনও ‘গেমপ্ল্যান’ লুকিয়ে নেই তো? অন্যদিকে, নন্দিনীও এই ঘটনায় বেশ হতবাক। তার পরিষ্কার কথা, এমন একটা অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত আসবে, তা সে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। ষষ্ঠীর সন্ধ্যার আবহে এই ঘটনা ঘরের বাকি সমীকরণগুলোকে আরও জটিল করে তুলেছে। সময়ের সঙ্গে যেখানে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে, সেখানে রাজবীরের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে দুর্নিবার ও তাঁর বন্ধুত্বের রসায়ন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।
একদিকে যখন রাজবীরের সিদ্ধান্তে ঘরের পরিবেশ আবেগঘন, ঠিক তখনই সব ওলটপালট করে দিলেন অভিনেতা জীতু কামাল। এপিসোডের শেষভাগে তাঁর একটি আচরণে ফের আগুনে ঘি পড়ে।
নিয়ম অনুযায়ী বা সকলের বারণ সত্ত্বেও জীতু সোজা গিয়ে হাজির হন ক্যাপ্টেন্সির রুমে এবং ক্যাপ্টেনের বিছানায় জল ঢেলে দিয়ে আসেন! তাঁর যুক্তি ছিল, দুর্নিবার যেহেতু এখন ক্যাপ্টেন, তাই ওই বিছানায় তাঁর একারই থাকার কথা। কিন্তু দুর্নিবারের সঙ্গে নিরঞ্জন একই বিছানায় থাকবেন—এই আপত্তি থেকেই জীতু নিজের জেদ ধরে রাখতে ওই কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন।
তাঁর এই বোকামি ও জেদি আচরণে বেজায় চটেছেন ঘরের প্রায় সব সদস্যই। কেউ তাকে সমর্থন তো করেননি, উল্টে রাজবীর সকলের সামনে স্পষ্ট ভাষায় জীতুর এই কাজকে ভুল বলে ধিক্কার জানান। পরিস্থিতি এতদূর গড়ায় যে, ক্যাপ্টেন দুর্নিবারের সঙ্গে জীতুর তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়।
কথায় আছে না, বিগ বসের মন জয় করা মুখের কথা নয়! সেখানে পুরস্কার বা স্পেশাল ফেভার পাওয়া তো আরও দুরূহ। তবে এত ঝগড়া, অশান্তি আর উত্তেজনার মাঝেই সব কষ্ট ভুলে গেল ঘরের সবাই। কারণ একটাই—পুরো লাক্সারি বাজেট পকেটে পুরে নেওয়ার আনন্দ! সমস্ত বিতর্ককে দূরে সরিয়ে লাক্সারি বাজেট জয়ের খুশিতে আপাতত মেতে উঠেছে গোটা বিগ বস পরিবার।