
দেখতে দেখতে কয়েক বছর পর ফের রাজকীয়ভাবে ছোটপর্দায় ফিরেছে ‘বিগ বস বাংলা’। সঞ্চালকের আসনে স্বয়ং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় থাকায় এবারের মরশুম নিয়ে দর্শককুলের কৌতুহলের শেষ নেই। ঘরের অন্দরে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন ড্রামা, ঝগড়া ও মারপিট। কিন্তু এই ঘরবন্দি জীবনের ঘানি টেনে শেষ পর্যন্ত মাথা ঠান্ডা রাখা কতটা কঠিন? তা নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে ভালোই জানেন প্রথম সিজনের অন্যতম আলোচিত প্রতিযোগী তথা অভিনেতা-বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। প্রথম মরশুমে ট্রফি একটুর জন্য হাতছাড়া হলেও রানার-আপ হয়েছিলেন তিনি। চলতি সিজনের বিগ বস নিয়ে সম্প্রতি টিভি নাইন বাংলার মুখোমুখি হয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করলেন টলিউডের রুডি।
স্মৃতিচারণ করে রুদ্রনীল জানান, ” প্রথম বাংলা বিগ বসে ছিলাম, রানার হয়েছিলাম। উইনার হতে গিয়ে একটু ফসকে গিয়েছিল। তবে পুরো বিচার পদ্ধতির একটা আলাদা নিয়ম থাকে।” নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, “বিগ বসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল, আমাদের হাত থেকে মোবাইল আর নিজের প্রিয় কাজগুলো কেড়ে নেওয়া হয়। তারপর কে কত মাথা ঠান্ডা রাখতে পারছে, ঠিক তার বিরুদ্ধে গিয়ে মজার সব টাস্ক দেওয়া হয়। একসঙ্গে থাকতে থাকতে আজ যে বন্ধু, কাল টিকে থাকার লড়াইয়ে সেই হয়ে ওঠে চরম প্রতিযোগী বা শত্রু।”
বর্তমান সিজনের খেলা নিয়ে রুদ্রনীলের বক্তব্য, ব্যস্ততার কারণে সব সময় দেখার সুযোগ না হলেও ছোট ছোট ক্লিপিংস তাঁর নজরে পড়ে। তাঁর কথায়, “আমাদের সময়েও মানসিক যুদ্ধ চলেছে, মতবিরোধ যে হয়নি তা নয়। তবে এবার যেটা দেখছি, কখনও মজার লাগছে, আবার কখনো মনে হচ্ছে—এতটা মাথা গরম না করলেই ভালো হত। কাউকে দেখলাম আহত হয়ে গেল, ঘোড়ার উপর থেকে ফেলে দেওয়া হলো! তবে গেম হিসেবে দেখতে গেলে মোটের ওপর বেশ মজাই লাগছে।”
ঘরের প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন এই তারকা। তিনি বলেন, “জিতু কমলকে দেখছি, রাজবীরকে দেখছি। এদিকে মনামী, ঝিলম আর তার সঙ্গে ভরত কল রয়েছে। ভরত কলকে কখনও মনে হচ্ছে পিতামহ ভীষ্ম, আবার কখনও মনে হচ্ছে শকুনি! যাই হোক, খেলার মোড় বেশ ইন্টারেস্টিং।”
তবে কেবল প্রতিযোগীদের নয়, দর্শকদের উদ্দেশ্যেও একটি বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর মতে, দর্শকরা এই শোর সঙ্গে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে জড়িয়ে পড়েন। রুদ্র বলেন, “শো দেখে অনেকেই ভেবে বসেন যে পর্দার আড়ালে ঢাকা থাকা মানুষটার আসল রূপটা বুঝি বাইরে এল, লোকটা বাস্তবেও বোধহয় এমনই। তাঁদের উদ্দেশ্যে আমি শুধু বলব—‘কুচু’! এটা স্রেফ একটা গেম, কোনও প্রতিযোগীকে নিয়ে ব্যক্তিগত স্তরে গিয়ে জাজ করবেন না।”