
সলমন খান (Salman Khan) মানেই পর্দায় ম্যাজিক, বক্স অফিসে তুমুল উত্তেজনা। কিন্তু ভাইজানের জীবনেও এমন একটা সময় এসেছিল, যখন পরিস্থিতি একেবারেই উল্টো ছিল। আইনি জটিলতা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সব মিলিয়ে চারদিকে তাঁকে নিয়ে শুধু নেতিবাচক আলোচনা। ঠিক সেই সময়েই ছোটপর্দায় ‘দশ কা দম’ সঞ্চালনার প্রস্তাব আসে তাঁর কাছে। চারদিকের এত সমালোচনায় তিনি তখন ভীষণ ক্লান্ত। ভেবেছিলেন, এই প্রস্তাব ফিরিয়েই দেবেন। কিন্তু বাবা সেলিম খানের এক ছোট্ট পরামর্শই নিমেষে বদলে যায় গোটা গল্পটা।
কী বলেছেন ভাইজান?
সম্প্রতি ‘বিগ বস্ ২০’-র মঞ্চে সেই কঠিন সময়ের কথা দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা। টানা দু’দশক ধরে ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’, ‘কর্ণ অর্জুন’-এর মতো সুপারহিট ছবি করেছেন তিনি। কিন্তু রিয়্যালিটি শোয়ের ব্যাপারটা একেবারে আলাদা। সেখানে কোনও স্ক্রিপ্ট থাকে না, নিজেকে নিজের মতো করে তুলে ধরতে হয়। আর ঠিক এই জায়গাতেই ভীষণ ভয় পাচ্ছিলেন সলমন। তিনি তখন সোজা চলে যান বাবার কাছে। সেলিম খান ছেলেকে বলেন, “তুমি কি নিজের শিক্ষা আর নিজের মনের উপর বিশ্বাস রাখো না? ক্যামেরার সামনে তুমি ঠিক যেমন, তেমনই থাকো। দর্শক যদি মেনে নেন খুব ভালো, আর যদি না মানেন, তবে বুঝতে হবে নিজেকে বদলানো দরকার।”
বাবার সেই কথায় ভরসা করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন সলমন। আর তার পরেই ম্যাজিক! ‘দশ কা দম’-এর মঞ্চে দর্শক এক অন্য সলমনকে দেখতে পান। এই প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, “সেই একটি অনুষ্ঠানে মানুষ আমাকে জানতে পেরেছিল। সবাই আমার সব ছবির কথা ভুলে গেল। তাঁরা শুধু ‘দশ কা দম’-এ আমাকে দেখতে শুরু করলেন। কারণ সেখানে তাঁরা কোনও অভিনেতাকে দেখেননি, একজন মানুষকে দেখেছিলেন।”
সেই যে ছোটপর্দায় তাঁর সফর শুরু হয়, তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘দশ কা দম’-এর পর টানা ১৭টি সিজন ধরে ‘বিগ বস্’-এর সঞ্চালনা করছেন ভাইজান। এখন ‘বিগ বস্ ২০’-র মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি পুরনো দিনের কথা মনে করেন। সলমনের মতে, এখনকার প্রতিযোগীরা উইকএন্ডের এপিসোড নিয়ে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে গিয়েছেন। আগেকার প্রতিযোগীরা যেমন সারা সপ্তাহ নিজেদের মতো থাকতেন, এখন অনেকেই ক্যামেরার কথা মাথায় রেখে চলেন। আর ঠিক এই জায়গাতেই সলমন তাঁদের নিজের জীবনের কথা বলেন। কেউ ভুল করলে তিনি অকারণে বকাঝকা করেন না। বরং, নিজের জীবনের সেই কঠিন অভিজ্ঞতা আর বাবার দেওয়া শিক্ষাই তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। কারণ ভাইজান বিশ্বাস করেন, ক্যামেরার সামনে বা পিছনে, সব জায়গাতেই নিজের আসল সত্তাকে ধরে রাখাটা সবচেয়ে জরুরি।