Radhika Mukherjee Depression: মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন শানের স্ত্রী রাধিকা! কী ঘটেছিল?

Radhika Mukherjee credits Shaan: জনপ্রিয় গায়ক শানের (Shaan) স্ত্রী রাধিকা মুখোপাধ্যায় (Radhika Mukherjee) নিজের জন্মদিনে অবসাদের (Depression) সঙ্গে তাঁর লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে আনলেন। স্বামীর অবিচল সমর্থন আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে কীভাবে তিনি এই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলেন, রইল সেই কাহিনি।

Radhika Mukherjee Depression: মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন শানের স্ত্রী রাধিকা! কী ঘটেছিল?
কী ঘটেছিল?

May 22, 2026 | 2:42 PM

তারকাদের (Bollywood) চাকচিক্য আর হাসিমুখ চোখে পড়লেও তার নেপথ্যে মাঝে মাঝেই লুকিয়ে থাকে এক বুক ভাঙা অন্ধকার। যে গায়কের জাদুকরী কণ্ঠস্বর দশকের পর দশক শ্রোতাদের মন ভালো করার টনিক হিসেবে কাজ করেছে, তাঁর নিজের অন্দরমহলেই চলছিল এক নীরব লড়াই! হ্যাঁ, কথা হচ্ছে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক শান (Shaan) এবং তাঁর স্ত্রী রাধিকা মুখোপাধ্যায় (Radhika Mukherjee)-কে নিয়ে। জন্মদিনের বিশেষ লগ্নে সোশাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন বার্তায় রাধিকা প্রকাশ্যে আনলেন তাঁর জীবনের এক ভয়ংকর সত্যি। জানালেন, কীভাবে অবসাদের (Depression) মতো এক ঘাতক ব্যাধি তাঁকে গ্রাস করেছিল। তবে এটি শুধুই ভেঙে পড়ার গল্প নয়, বরং এক অদম্য লড়াই করে ফিরে আসার কাহিনি।

‘তানহা দিল’ থেকে শুরু করে ‘চান্দ সিফারিশ’— যার গানে বুঁদ হয়ে থাকে আসমুদ্রহিমাচল, তাঁর স্ত্রীর জীবনেই নেমে এসেছিল এই কালো ছায়া। গত ২১ মে ছিল রাধিকার জন্মদিন। আর এই দিনেই তিনি তাঁর জীবনের ‘কঠিনতম অধ্যায়ের’ কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। অনুরাগীদের শুভেচ্ছাবার্তার উত্তর দিতে গিয়ে তিনি লেখেন, “জন্মদিনের এত সুন্দর সুন্দর শুভেচ্ছা, ভালোবাসা এবং বার্তার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। তবে এই বছরটা আমার কাছে একটু অন্যরকম লাগছে। অনেক বেশি ব্যক্তিগত, সুন্দর এবং সম্পূর্ণ।” এরপরই তিনি জানান যে, তিনি গুরুতর অবসাদের (Depression) মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন।

গ্ল্যামার জগতের মানুষদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটা মিথ রয়েছে যে, তাঁদের জীবনে কোনও দুঃখ বা অবসাদ থাকতে পারে না। কিন্তু রাধিকা জানিয়েছেন, “আমি কখনও এই সত্যিটা লুকাইনি যে আমি গুরুতর অবসাদের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি।” মানসিক অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসা মোটেই সহজ নয়। রাধিকার কথায়, “পরিবারের অবিচল সমর্থন ছাড়া এই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসা একপ্রকার অসম্ভব ছিল। তবে আমি কখনও বিশ্বাস হারাইনি যে সেরে ওঠা সম্ভব।” এই কঠিন সময়ে তাঁর স্বামী শান (Shaan) এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কীভাবে ঢাল হয়ে তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। স্বামী, দুই সন্তান সোহম ও মাহি এবং বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।


গত এক বছর ধরে নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ করে তোলার জন্য তিনি যে নিরলস চেষ্টা চালিয়েছেন, আজ তার সুফল তিনি পাচ্ছেন। রাধিকা জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি ‘ইন্টিগ্রেটিভ কাউন্সেলিং থেরাপি’ (Integrative Counselling Therapy)-তে একটি ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন। এটি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে একটি স্বীকৃত প্রমাণপত্র। নিজের জন্মদিনে নিজেকে দেওয়া এর চেয়ে বড় উপহার আর কিছুই হতে পারে না বলেই তাঁর বিশ্বাস।

আজ তিনি নিজেকে অনেক বেশি সুখী, হালকা এবং অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী বলে মনে করেন। তারকাদের জীবন মানেই সব কিছু নিখুঁত, এই ধারণা ভেঙে দিয়ে রাধিকার এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করল যে, মানসিক অবসাদ যে কারও জীবনে হানা দিতে পারে। অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে হাঁটার এই লড়াই নিঃসন্দেহে বহু মানুষকে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

Follow Us