
শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan) মানেই বক্স অফিসে টাকার ছড়াছড়ি। কিন্তু যিনি ব্যবসার অঙ্কে বলিউডের ‘বাদশা’, তাঁর নিজের কোষাগারেই কিনা বড়সড় টান! ব্যবসার ওঠানামা যে কাউকে রেয়াত করে না, তার প্রমাণ মিলল সম্প্রতি। কারণ, খোদ কিং খানের সম্পত্তি এক ধাক্কায় কমে গিয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা।
কী বলছে আর্থিক সমীক্ষার রিপোর্ট?
আর্থিক সমীক্ষা সংস্থা ‘হুরুন ইন্ডিয়া’ (Hurun India)-র ২০২৬ সালের ‘রিচ লিস্ট’ বা ধনীদের তালিকা থেকে এই তথ্য মিলেছে। ডেটা ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের রিপোর্টে শাহরুখের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১২,৪৯০ কোটি টাকা। আর এই বছর সেই অঙ্কটা নেমে এসেছে ১০,০০০ কোটিতে। অর্থাৎ, মাত্র ১২ মাসের ব্যবধানে তাঁর আর্থিক গ্রাফ নেমেছে ঠিক ২৪৯০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, এই সম্পত্তির হিসেব শুধু সিনেমার পারিশ্রমিক বা বিজ্ঞাপনের আয় দিয়ে হয় না। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট’ এবং আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘নাইট রাইডার্স’-এর মতো ব্যবসার আয়ও।
ক্ষতি সামলেও সিংহাসন তাঁরই দখলে
এক বছরে ২৫০০ কোটির ক্ষতি যে কোনও মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু তিনি তো শাহরুখ! এত বড় ধাক্কা খাওয়ার পরও ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতার তকমাটা তাঁর সঙ্গেই রয়েছে। সমীক্ষার ডেটা বলছে, সম্পত্তির নিরিখে তাঁর ধারেকাছেও কেউ নেই। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অমিতাভ বচ্চনের মোট সম্পত্তি ৪০০০ কোটি টাকার। তিন নম্বরে রয়েছেন সলমন খান (৩০০০ কোটি) এবং চার নম্বরে হৃতিক রোশন (২৫০০ কোটি)। অর্থাৎ, ক্ষতি সামলেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বহু যোজন এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
কবে আসছে নতুন ছবি ‘কিং’?
আর্থিক গ্রাফের এই ওঠানামার প্রভাব তাঁর সিনেমা জীবনে পড়ছে না একেবারেই। ২০২৩ সালে ‘ডানকি’-র পর ভক্তরা মুখিয়ে আছেন তাঁর নতুন ধামাকার জন্য। তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে ‘কিং’ (King) ছবির হাত ধরে পর্দায় ফিরছেন তিনি। সিদ্ধার্থ আনন্দের পরিচালনায় এই অ্যাকশন-থ্রিলারে শাহরুখের সঙ্গে রয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন এবং মেয়ে সুহানা খান। রিপোর্ট বলছে, খলনায়কের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে অভিষেক বচ্চনকে। সম্প্রতি এক্সে (X) ফ্যানেদের সঙ্গে আড্ডায় শাহরুখ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৬-এই বড় পর্দায় ঝড় তুলতে আসছে ‘কিং’।