‘এভাবে আমাকে অসম্মান করতে পারেন না…’ মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হল শিলাজিৎকে! কী ঘটল সেন্ট্রাল পার্কে?
অভিযোগ, অনুষ্ঠানের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই খোদ পুলিশি হস্তক্ষেপে চূড়ান্ত অপমানিত হয়ে মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হলেন শিল্পী। শুধু অনুষ্ঠান থামানোই নয়, পুলিশের পক্ষ থেকে শিলাজিতের প্রতি ‘কুরুচিকর’ ইঙ্গিত করা হয়েছে বলেও বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন তিনি।

শুক্রবার রাতে কৃষ্ণনগর সেন্ট্রাল পার্কের বইমেলা প্রাঙ্গণ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। মঞ্চে তখন মেজাজে গান গাইছেন শিলাজিৎ মজুমদার। কিন্তু অনুষ্ঠানের একেবারে অন্তিম লগ্নে যা ঘটল, তা এক কথায় নজিরবিহীন। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই খোদ পুলিশি হস্তক্ষেপে চূড়ান্ত অপমানিত হয়ে মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হলেন শিল্পী। শুধু অনুষ্ঠান থামানোই নয়, পুলিশের পক্ষ থেকে শিলাজিতের প্রতি ‘কুরুচিকর’ ইঙ্গিত করা হয়েছে বলেও বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, শিলাজিতের অনুষ্ঠান চলার কথা ছিল রাত ১১টা পর্যন্ত। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ১০টা ৫৮ ছুঁতেই মেলা প্রাঙ্গণে উদয় হয় পুলিশ বাহিনী। শিলাজিতের অভিযোগ, তখনও হাতে দু’মিনিট সময় থাকা সত্ত্বেও পুলিশ অত্যন্ত অসভ্যভাবে এবং নোংরা ইশারা করে তাঁকে গান থামানোর ইঙ্গিত দেয়। ভরা মঞ্চে একজন শিল্পীর প্রতি পুলিশের এই ‘দাদাগিরি’ দেখেই মেজাজ হারান শিলাজিৎ।
পুলিশের এমন আচরণে স্তম্ভিত শিল্পী পাল্টা তোপ দাগেন মাইক হাতেই। তিনি সরাসরি পুলিশ আধিকারিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এভাবে আমাকে অসম্মান করতে পারেন না। আপনাদের এর থেকে অনেক বেশি আওয়াজ সহ্য করতে হয়। ১১টা বাজতে এখনও দু’মিনিট বাকি, উদ্যোক্তারাই আমাকে এই সময় দিয়েছেন।” এরপরই ক্ষোভে ও অভিমানে অনুষ্ঠান অসম্পূর্ণ রেখেই মঞ্চ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ভিডিয়ো সৌজন্যে- ফেসবুক
মঞ্চ থেকে নামার সময় পুলিশের উদ্দেশে শিলাজিতের মন্তব্য এখন নেটপাড়ায় ভাইরাল। তিনি বলেন, “স্যার, আপনি আমাকে না চিনতেই পারেন, কিন্তু এই ৩২ বছরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আমাকে চিনেছে। সাধারণ মানুষ আমার গান শুনতে এসেছেন, আর পাঁচটা মিনিট দিলে কি খুব সমস্যা হতো? আজ একজন শিল্পীকে এভাবে বাজে ইশারা করে নামিয়ে দিচ্ছেন, ভোটের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর শো কীভাবে আটকান, তা আমি দেখব।”
View this post on Instagram
উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগরে গান গাইতে এসে এর আগেও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন শিলাজিৎ। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে আগে একটি ভিডিও-ও করেছিলেন তিনি। এবার ফের একই শহরে পুলিশের এমন ‘অভব্য’ আচরণে রাজ্যের শিল্পী মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, সময়ের দোহাই দিয়ে একজন প্রবীণ শিল্পীকে এভাবে জনসমক্ষে অপমান করা কি কাম্য? সোশাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই পুলিশের এই ভূমিকার কড়া সমালোচনা শুরু করেছেন নেটিজেনরা।
