‘দয়া করে আমাকে ঘৃণা করবেন না’, ঐশ্বর্যের সঙ্গে মিল নিয়ে কেন ক্ষমা চেয়েছিলেন স্নেহা উল্লাল?

স্নেহা জানিয়েছেন, ঐশ্বর্যের সঙ্গে তাঁর যখন প্রথম দেখা হয়, তখন তিনি রীতিমতো কুঁকড়ে গিয়েছিলেন। আসলে সংবাদমাধ্যম থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই যেভাবে দুজনের তুলনা টানতেন, তাতে স্নেহার মনে হয়েছিল ঐশ্বর্য বোধহয় ওঁর ওপর বেজায় চটে আছেন।

‘দয়া করে আমাকে ঘৃণা করবেন না’, ঐশ্বর্যের সঙ্গে মিল নিয়ে কেন ক্ষমা চেয়েছিলেন স্নেহা উল্লাল?
Image Credit source: wikipedia

Mar 16, 2026 | 6:20 PM

বলিউডে পা রাখার পর থেকেই একটা তকমা তাঁর নামের জুড়ে গিয়েছিল—‘ঐশ্বর্য রাইয়ের মতো দেখতে’। ২০০৫ সালে ‘লাকি: নো টাইম ফর লাভ’ ছবি দিয়ে যখন রুপোলি পর্দায় এলেন স্নেহা উল্লাল , তখন চারিদিকে শুধু একটাই আলোচনা, এ তো হুবহু ঐশ্বর্য! সলমন খানের নায়িকা হওয়ার চেয়েও স্নেহার কাছে বড় পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর চেহারা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই পুরনো দিনগুলো নিয়ে মন খুলে কথা বললেন অভিনেত্রী। জানালেন, সেই সময় ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের মুখোমুখি হয়ে ঠিক কী করেছিলেন তিনি।

স্নেহা জানিয়েছেন, ঐশ্বর্যের সঙ্গে তাঁর যখন প্রথম দেখা হয়, তখন তিনি রীতিমতো কুঁকড়ে গিয়েছিলেন। আসলে সংবাদমাধ্যম থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই যেভাবে দুজনের তুলনা টানতেন, তাতে স্নেহার মনে হয়েছিল ঐশ্বর্য বোধহয় ওঁর ওপর বেজায় চটে আছেন। স্নেহা সেই সাক্ষাতের বিষয় বলেন , “আমি ওঁর সামনে গিয়েই বলেছিলাম, ‘আমি সত্যিই দুঃখিত, প্লিজ আমাকে ঘৃণা করবেন না।’ আসলে তুলনাটা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে আমার ভয় হয়েছিল উনি বোধহয় বিরক্ত হয়েছেন।” তবে স্নেহার সেই ভয় নিমেষেই কাটিয়ে দিয়েছিলেন ঐশ্বর্য। বড় দিদির মতোই স্নেহার পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, “বলিউড পরিবারে তোমাকে স্বাগত।”

এই সাক্ষাৎকারে সলমন খানকে নিয়েও অকপট স্নেহা। সেই সময় কানাঘুষো শোনা যেত, ঐশ্বর্যের সঙ্গে বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় সলমন নাকি তাঁরই মতো দেখতে স্নেহাকে বলিউডে নিয়ে এসেছেন। তবে স্নেহা মনে করেন, সলমন তাঁর কেরিয়ারে বড় মেন্টর ছিলেন। সুপারস্টার হয়েও স্নেহার মতো এক নবাগতার সঙ্গে শুটিংয়ে সলমন বিন্দুমাত্র ইগো দেখাননি। স্নেহার কথায়, “সলমন আমাকে খুব সাপোর্ট করেছিলেন। ওঁর যে মেজাজের কথা সবাই বলে, সেটা আমি অন্তত কখনও দেখিনি। উনি ভীষণ ধৈর্য নিয়ে আমাকে কাজ শিখিয়েছেন।”

আশ্চর্যের বিষয় হল, স্নেহা কোনওদিন অভিনেত্রী হতে চাননি। তখন তিনি স্রেফ কলেজের ছাত্রী। সলমনের বোন অর্পিতার বন্ধুদের নজরে পড়ে গিয়েই তাঁর ভাগ্য খুলে গিয়েছিল। স্নেহা হাসতে হাসতে জানান, ঐশ্বর্য যখন বিশ্বসুন্দরী হয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি নিজের গণ্ডির মধ্যে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হয়ে গিয়েছিলেন। কারণ সবাই ওঁর চেহারার সঙ্গে ঐশ্বর্যের মিল খুঁজে পেত। স্নেহা বলেন, “আমি আসলে বরাবরই একটু টমবয় টাইপের ছিলাম, সাজগোজ বা গ্ল্যামার নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। তাই এই তুলনাগুলো আমাকে কখনই খুব একটা বিরক্ত করেনি।” ওই বয়সে কোনও অহংকার ছিল না বলেই বিষয়টিকে সহজভাবে নিতে পেরেছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

Follow Us