বলিউডে শুধুই পুরুষদের গান! অরিজিৎকে কটাক্ষ করে কী বললেন সোনা মহাপাত্র?
সম্প্রতি কেরলে আয়োজিত ‘এমবিআই ফেস্টিভ্যাল অফ লেটারস’-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলিউডের সঙ্গীত জগতের একচেটিয়া লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে এক বড়সড় বোমা ফাটালেন সোনা। তবে মুম্বইয়ের বদলে কেরলকে কেন বাছলেন প্রতিবাদের জন্য? স্পষ্টভাষী গায়িকার জবাব, “কেরলে বাকস্বাধীনতাকে ভীষণ সম্মান করা হয়, তাই এখানেই এই সত্যটা তুলে ধরলাম।”

বিনোদন দুনিয়ার অন্দরের বৈষম্য নিয়ে যখনই প্রশ্ন উঠেছে, তখনই নির্ভীক কন্ঠে প্রতিবাদী সুর চড়িয়েছেন গায়িকা সোনা মহাপাত্র। নিজেকে ‘আদ্যোন্ত নারীবাদী’ বলে পরিচয় দেওয়া এই শিল্পী আরও একবার সরব হলেন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ‘পুরুষতান্ত্রিক’ মানসিকতার বিরুদ্ধে। মাসখানেক আগেই নারীবিদ্বেষী গানের জন্য র্যাপার বাদশাকে ‘দায়িত্ববান’ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। এবার তাঁর নিশানায় বলিউডের আধুনিক সঙ্গীত জগৎ, খোদ সুরকার প্রীতম এবং জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের একটি বিশেষ গান।
সম্প্রতি কেরলে আয়োজিত ‘এমবিআই ফেস্টিভ্যাল অফ লেটারস’-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলিউডের সঙ্গীত জগতের একচেটিয়া লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে এক বড়সড় বোমা ফাটালেন সোনা। তবে মুম্বইয়ের বদলে কেরলকে কেন বাছলেন প্রতিবাদের জন্য? স্পষ্টভাষী গায়িকার জবাব, “কেরলে বাকস্বাধীনতাকে ভীষণ সম্মান করা হয়, তাই এখানেই এই সত্যটা তুলে ধরলাম।”
উৎসবের মঞ্চে সোনা অভিযোগ করেন, বলিউডের যাবতীয় বিরহ আর যন্ত্রণার গান যেন কেবল পুরুষ শিল্পীদের জন্যই তৈরি করা হয়। গায়িকার ক্ষোভ, “বলিউডের গান শুনলে মনে হয়, প্রেমে পড়া আর মন ভাঙার অধিকার বোধহয় শুধু পুরুষদেরই আছে!” নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি জানান, বহু ছবিতে দ্বৈত সঙ্গীত (ডুয়েট) গাওয়ার জন্য তাঁকে ডাকা হলেও, দেখা গেছে মূল অংশটি পুরুষ গায়কের ভাগে গেছে আর নারী কণ্ঠের জন্য বরাদ্দ হয়েছে স্রেফ গানের শেষ অংশ বা কোরাসটুকু।
এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই শাহরুখ খান অভিনীত ‘রইস’ ছবির সুপারহিট গান ‘জালিমা’-র উদাহরণ টানেন সোনা মহাপাত্র। চলতি বছরের শুরুতেই অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক দুনিয়া থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা করলেও, তাঁর গাওয়া এই গানটির সুর-বিন্যাস নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন গায়িকা। তিনি জানান, এই গানটির অফার প্রথমে তাঁর কাছেও এসেছিল। কিন্তু রেকর্ডিংয়ের রূপরেখা দেখে তিনি কার্যত তাজ্জব বনে যান। সোনার কথায়, “গানের মুখরা থেকে অন্তরা— সবই অরিজিৎ গেয়েছেন। অরিজিৎ অসাধারণ শিল্পী, এখানে ওর কোনও দোষ নেই। কিন্তু আমার প্রশ্ন ছিল, নারী কণ্ঠ কেন একদম শেষে আসবে?”
এই বৈষম্য মেনে না নিতে পেরে তৎকালীন সময়েই সুরকার প্রীতমকে সোজাসুজি প্রশ্ন করেছিলেন সোনা। প্রীতমের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন ছিল, “এটা কেমন ডুয়েট গান? শুনে তো মনে হচ্ছে পুরুষটি নিজেই নিজের সাথে প্রেম করছে! সেখানে আমার অংশ কেন একদম শেষে রাখা হলো?”
সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির মতো মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতেও পুরুষ শিল্পীদের একচ্ছত্র আধিপত্য, সুযোগ-সুবিধার তারতম্য এবং পারিশ্রমিকের বৈষম্য নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। সোনা মহাপাত্রের এই বিস্ফোরক মন্তব্য সেই পুরনো ক্ষতকেই আরও একবার উস্কে দিল। তবে গায়িকা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই লড়াই কোনও নির্দিষ্ট গায়কের বিরুদ্ধে নয়, বরং এই বৈষম্যমূলক ‘ইকোসিস্টেম’ বা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যা দশকের পর দশক ধরে নারী কণ্ঠকে কেবলই অলঙ্কার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
