
সোনু নিগম (Sonu Nigam) স্টেজে উঠলে টানা ৩ ঘণ্টা কীভাবে যে কেটে যায়, তা দর্শকরা টেরও পান না। নিজে গান গাইতে গাইতে যেমন স্টেজে নাচেন, তেমনই তাঁর গানের তালে নেচে ওঠেন দর্শকরাও। কিন্তু হাসিখুশি এই গায়কের জীবনেই হঠাৎ নেমে এল চরম বিপত্তি। বিদেশের মাটিতে শো করতে গিয়ে এমন এক মারাত্মক শারীরিক অবস্থার শিকার হলেন তিনি, যে শো একেবারে বাতিল হওয়ার জোগাড়! যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ড্রেসিংরুমে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেললেন বলিউডের এই জনপ্রিয় গায়ক।
কী এমন ঘটে তাঁর সঙ্গে?
বর্তমানে আমেরিকা ও কানাডায় ওয়ার্ল্ড ট্যুর করছেন সোনু। সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু ডালাসের শোয়ের আগে হঠাৎই ছন্দপতন। বিদেশে গেলে অনেক সময় খাওয়া-দাওয়ার নিয়ম ঠিক থাকে না। সোনুর ক্ষেত্রেও তাই হল। ভারতীয় খাবার খেতে মন চেয়েছিল তাঁর। কিন্তু বাইরের খাবার খেয়ে হজমের মারাত্মক গন্ডগোল শুরু হয়। গায়ক নিজেই আগে জানিয়েছিলেন যে, বাড়ির তৈরি সাধারণ ভারতীয় খাবার না খেলে তাঁর পেটের সমস্যা শুরু হয়। এবারও ঠিক তাই হল। এর থেকে প্রবল অ্যাসিডিটি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স দেখা দেয়। অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে, তাঁর গানের গলা পুরোপুরি বুজে আসে। সারা রাত ব্যথায় ঘুমোতে পারেননি। মুঠোমুঠো ওষুধ খেয়ে কোনও মতে নিজেকে সামলে শোয়ের জায়গায় পৌঁছন গায়ক।
২০২৬ সালের শুরুতেও এক বার বড় শারীরিক সমস্যার মুখে পড়েছিলেন তিনি। গায়ক নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি ‘পিনচড নার্ভ’ বা স্নায়ুর চাপে ভোগার সমস্যায় ভুগছেন। সেই সময় চিকিৎসার জন্য তাঁকে এমআরআই (MRI) ও সিটি স্ক্যান করাতে হয়েছিল। নিতে হয়েছিল খুব যন্ত্রণাদায়ক ফিজিওথেরাপিও। এমনকী কড়া ওষুধের জন্য তাঁর গলা ভারী হয়ে গিয়েছিল, যা একজন গায়কের জন্য মারাত্মক চিন্তার বিষয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবার এই নতুন বিপদ।
গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোচ্ছে না, শরীর চরম অসুস্থ। কিন্তু তবুও দর্শকদের নিরাশ করেননি সোনু। স্টেজে উঠে এক্কেবারে রাজার মতো পারফর্ম করলেন। তাঁর যে এতটা কষ্ট হচ্ছে, তা দর্শকরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারলেন না। কিন্তু শো শেষ হতেই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। সোজা ড্রেসিংরুমে গিয়ে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। নিজের আবেগ কোনও ভাবেই আটকে রাখতে পারেননি।
নব্বইয়ের দশক থেকে ‘কাল হো না হো’ বা ‘সূরজ হুয়া মদ্ধম’-এর মতো হিট গান উপহার দিয়েছেন যিনি, সেই জাতীয় পুরস্কারজয়ী শিল্পীর এমন অবস্থা দেখে ভক্তদের চোখেও জল। ৫ হাজারেরও বেশি গান গাওয়া এই বহুমুখী গায়কের অসহায়তা সত্যিই কষ্ট দেয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এতগুলো সুপারহিট গানের স্রষ্টার এই কান্না দেখে ভক্তদের মনেও ভয় ঢুকে গিয়েছে। সবাই চাইছেন তাঁদের প্রিয় শিল্পী যেন খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন।