
‘বিগ বস’-এর ঘরে কখন কী ঘটতে চলেছে, তার আঁচ পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু অধিনায়ক বা ‘ক্যাপ্টেন’ হওয়ার লড়াই যে এতটা হিংস্র রূপ নিতে পারে, তা হয়তো ভাবেননি দর্শকরাও। সম্প্রতি ক্যাপ্টেনসির টাস্ক চলাকালীন ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সৃজলা গুহ (Srijla Guha)। প্রতিযোগী নন্দিনীর মারাত্মক আক্রমণে ঘোড়া থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। আর এই ঘটনার পর সোশালে সরব হয়েছেন সৃজলার প্রাক্তন অনস্ক্রিন পার্টনার, অভিনেতা শন বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্তত, শন স্পষ্ট না একথা বললেও,নেটিজেনরা তেমনটিই মনে করছেন।
ঘটনার সূত্রপাত বিগ বসের বিশেষ ‘ক্যাপ্টেনসি টাস্ক’কে কেন্দ্র করে। প্রথমে মিউজিক্যাল চেয়ার পর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছন তনুশ্রী, সৃজলা, মনামী, জীতু ও রাজবীর। এরপর তাঁদের একটি নকল ঘোড়ায় চাপার নির্দেশ দেওয়া হয়। নিয়ম ছিল—কাউকে শারীরিক আঘাত না করে কৌশল প্রয়োগ করে ঘোড়া থেকে নামাতে হবে। কিন্তু খেলার ময়দানে আচমকাই নিজের আগ্রাসী রূপ দেখান নন্দিনী।
প্রথমে রাজবীরকে অনায়াসে নামিয়ে দেওয়ার পর নন্দিনীর নজর পড়ে সৃজলার ওপর। অথচ কিছুক্ষণ আগেই সৃজলা তাঁকে কথা দিয়েছিলেন, তিনি ক্যাপ্টেন হলে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবেন। কিন্তু সেই কথা কানে তোলেননি নন্দিনী। সজোরে ধাক্কা দিয়ে সৃজলাকে ঘোড়া থেকে ফেলার চেষ্টা করেন তিনি। প্রথমবার দুর্নিবার সামলে নিলেও, দ্বিতীয়বারের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়েন সৃজলা।
আঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে যন্ত্রণায় চিৎকার করে কেঁদে ফেলেন অভিনেত্রী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিগ বস তৎক্ষণাৎ টাস্ক থামিয়ে সৃজলাকে বিশ্রামের নির্দেশ দেন। সহ-প্রতিযোগী রাজবীর তাঁকে কোলে তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। খেলার নিয়মের বাইরে গিয়ে নন্দিনীর এই অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা করছেন বাকি প্রতিযোগীরাও।
এদিকে এই ঘটনার পরেই অভিনেতা শন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইনস্টাগ্রামে একটা স্টোরি শেয়ার করেন। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক ক্ষুব্ধ বার্তায় তিনি লেখেন— “বিরক্তিকর, অমানবিক এবং লজ্জাজনক। এটা একেবারেই উচিত নয়। এই কর্মের ফল দ্রুত মিলবে!”
যদিও শন সরাসরি কারও নাম নেননি, তবে অনুরাগী ও নেটিজেনদের বুঝতে বাকি নেই যে পোস্টটি বিগ বসের ঘরে সৃজলার ওপর হওয়া আক্রমণের প্রতিক্রিয়াতেই দেওয়া। একসময় স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মন ফাগুন’-এ পিহু ও ঋষির চরিত্রে শন-সৃজলার রসায়ন দর্শকদের মন জয় করেছিল। পর্দা পার হলেও তাঁদের অনস্ক্রিন সমীকরণ ও বন্ধুত্বের টান যে আজও অটুট, শনের এই বার্তা যেন ফের একবার তা প্রমাণ করে দিল।