বিভীষিকা কাটিয়ে ঘরে ফিরলেন শুভশ্রী-ইউভান, বিমানবন্দরে নেমে কী বললেন অভিনেত্রী?

মা আর দাদাকে দেখে বিমানবন্দরেই জাপটে ধরে খুদে ইয়ালিনি। রাজ চক্রবর্তীর মুখে তখন বিজয়ী হাসি। গত কয়েকটা দিন কার্যত ঘুম ছিল না দুই পরিবারে। বারবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা, আর প্রতিটা খবর পাওয়ার জন্য টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখা— এই উৎকণ্ঠার প্রহর শেষ হল শুক্রবার। মেয়ে আর নাতিকে ফিরে পেয়ে এখন খুশির জোয়ার বর্ধমান থেকে কলকাতার গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারে।

বিভীষিকা কাটিয়ে ঘরে ফিরলেন শুভশ্রী-ইউভান, বিমানবন্দরে নেমে কী বললেন অভিনেত্রী?

|

Mar 06, 2026 | 7:55 PM

কয়েকটা দিন যেন অনন্তকাল। বিদেশের মাটিতে আটকে পড়ে অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছিলেন মা ও ছেলে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের রণদামামা, আর অন্যদিকে বন্ধ আকাশপথ। সেই মেঘ কাটিয়ে শুক্রবার বিকেলে কলকাতা বিমানবন্দরে যখন পা রাখলেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, তাঁর চোখেমুখে তখন স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ। পাশে ছোট্ট ইউভান। ঘরের মানুষকে সামনে পেয়ে বিমানবন্দরেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রাজ চক্রবর্তী।

বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর সময় শুভশ্রীর চোখেমুখে তখনও সেই আতঙ্কের রেশ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধ্বস্ত অভিনেত্রী বলেন, “সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা আর প্রার্থনা ওই কঠিন সময়ে আমাদের লড়াই করার শক্তি দিয়েছে। ওখানে যে কী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে, তা এখনই ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমি সত্যিই খুব ক্লান্ত। সবাই ভালো থাকবেন।”

ছেলের আবদার ছিল, স্কুলের পরীক্ষা শেষ হলে মায়ের সঙ্গে দুবাই বেড়াতে যাবে। ছেলের সেই হাসি মুখ দেখতেই কদিন আগে পাড়ি দিয়েছিলেন মরুশহরে। কিন্তু কে জানত, ছুটির মেজাজ বদলে যাবে যুদ্ধের হাহাকারে! ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে যখন আকাশপথ স্তব্ধ, তখন দুবাইয়ের হোটেলের ঘরে কার্যত বন্দি ছিলেন তাঁরা। অভিনেত্রীর বাবা দেবপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, শুভশ্রীরা যে হোটেলে ছিলেন, তার আশেপাশেও বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। প্রতিটা মুহূর্ত কাটাতে হয়েছে আতঙ্কে— এই বুঝি প্রাণ সংশয় হয়!

মা আর দাদাকে দেখে বিমানবন্দরেই জাপটে ধরে খুদে ইয়ালিনি। রাজ চক্রবর্তীর মুখে তখন বিজয়ী হাসি। গত কয়েকটা দিন কার্যত ঘুম ছিল না দুই পরিবারে। বারবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা, আর প্রতিটা খবর পাওয়ার জন্য টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখা— এই উৎকণ্ঠার প্রহর শেষ হল শুক্রবার। মেয়ে আর নাতিকে ফিরে পেয়ে এখন খুশির জোয়ার বর্ধমান থেকে কলকাতার গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারে।

বিদেশের মাটিতে কাটানো সেই অন্ধকার দিনগুলো হয়তো স্মৃতি থেকে মোছা সহজ নয়, তবে আপাতত নিজের শহরে, নিজের মানুষদের মাঝে ফিরতে পারাই শুভশ্রীর কাছে সবথেকে বড় জয়।