Anurag Kashyap: ব্রাহ্মণ-বিরোধী মন্তব্য! সমন এড়াতেই অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে বড় সিদ্ধান্ত নিল আদালত

Anti-Brahmin Remarks: সোশাল মিডিয়ায় রাগের মাথায় করা এক মন্তব্যই কাল! বারবার আদালতের সমন উপেক্ষা করার চরম খেসারত, বলিউডের বিতর্কিত পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে এবার বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল সুরাট আদালত। কী ঘটেছে?

Anurag Kashyap: ব্রাহ্মণ-বিরোধী মন্তব্য! সমন এড়াতেই অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে বড় সিদ্ধান্ত নিল আদালত
কী ঘটেছে পরিচালকের সঙ্গে?

Nov 03, 2026 | 11:07 AM

বলিউডের অন্যতম বিতর্কিত এবং স্পষ্টবাদী পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ ফের আইনি বিপাকে। সোশাল মিডিয়ায় ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এবার তাঁর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল সুরাটের একটি আদালত। বারবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও তিনি আদালতে হাজিরা দেননি। আর ঠিক সেই কারণেই এবার কড়া পদক্ষেপ নিল আদালত। আগামী ২৪ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’ বা ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’-র মতো চর্চিত ছবির ৫৪ বছর বয়সী এই পরিচালকের বিরুদ্ধে গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের এপ্রিলে একটি অভিযোগ দায়ের হয়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের আইনি উপদেষ্টা কমলেশ রাভাল এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ব্রাহ্মণদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করে সমাজে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন অনুরাগ। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৯২, ৩৫২ এবং ৩৫২ (২) ধারায় পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার নির্দেশ দেয় আদালত। এর আগে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সমন পাঠানো হয়েছিল। এমনকি মুম্বইয়ের একটি প্রথম সারির সংবাদপত্রেও তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু কোনও নির্দেশকেই পাত্তা দেননি তিনি। বারবার হাজিরা এড়ানোর কারণে সোমবার সুরাটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জে ভি চৌহান তাঁর বিরুদ্ধে এই জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেন।

ঠিক কী ঘটেছিল?

গত বছর ‘ফুলে’ ছবির ট্রেলার মুক্তির পর অখিল ভারতীয় ব্রাহ্মণ সমাজ এবং বিপ্র সেনার মতো বেশ কয়েকটি সংগঠন আপত্তি তোলে। সেই প্রসঙ্গেই সোশাল মিডিয়ায় সুর চড়ান অনুরাগ। সেই সময় আদিত্য নামের এক নেটিজেন তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করলে, রাগের মাথায় পরিচালক তাঁকে আক্রমণ করে বসেন। তিনি লেখেন, “ব্রাহ্মণ হয়ে তুমি জীবনে কী এমন অর্জন করেছ?” অভিযোগকারীর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য গোটা ব্রাহ্মণ সমাজের জন্য চরম অপমানজনক। একজন জনপ্রিয় পরিচালক, যাঁর কাজ সমাজের নানা স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তাঁর এমন মন্তব্য দেশের শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। তিনি হয়তো কখনও ভাবেননি যে একটি সোশাল মিডিয়া পোস্ট তাঁকে এমন দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতায় ফেলবে।

যদিও বিতর্কের জলঘোলা হতেই নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন অনুরাগ কাশ্যপ। ঘটনার কয়েকদিন পরই ইনস্টাগ্রামে একটি বিবৃতি দিয়ে গোটা ব্রাহ্মণ সমাজের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। তিনি লিখেছিলেন, রাগের মাথায় এক ব্যক্তির মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলেন। এমন কটু শব্দ ব্যবহারের জন্য তিনি তাঁর বন্ধু, পরিবার এবং ব্রাহ্মণ সমাজের কাছে আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত।

তবে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েও শেষরক্ষা হল না। আইনি প্রক্রিয়া যে তার নিজের গতিতেই এগিয়ে গিয়েছে, সুরাট আদালতের এই নির্দেশ তারই পরিষ্কার প্রমাণ। আইন বা আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে আগামী দিনে পরিচালকের আইনি বিপদ আরও বাড়তে পারে। আপাতত ২৪ ডিসেম্বরের শুনানিতে অনুরাগ কাশ্যপ নিজে উপস্থিত থাকেন কি না, সেদিকেই নজর সকলের।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us