Nana Patekar untold story: অভিনয়ে আসার আগে মুম্বই পুলিশের সঙ্গে কাজ করতেন নানা পাটেকর! কী ছিল তাঁর গোপন দায়িত্ব?

Nana Patekar Death: পর্দায় দাপুটে পুলিশ অফিসারের চরিত্রে নানা পাটেকরের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু বলিউডে পা রাখার অনেক আগে থেকেই মুম্বই পুলিশের সঙ্গে তাঁর এক গোপন যোগাযোগ ছিল! কী এমন কাজ করতেন তিনি, যার জন্য অপরাধীরাও তাঁকে ভয় পেত?

Nana Patekar untold story: অভিনয়ে আসার আগে মুম্বই পুলিশের সঙ্গে কাজ করতেন নানা পাটেকর! কী ছিল তাঁর গোপন দায়িত্ব?
জানুন বিস্তারিত

Oct 09, 2026 | 9:23 AM

রূপোলি পর্দায় কড়া মেজাজের পুলিশ অফিসারের চরিত্রে নানা পাটেকর (Nana Patekar) সব সময়েই সুপারহিট। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, ক্যামেরার সামনের এই দাপুটে অভিনেতা বাস্তবেও ছিলেন পুলিশের ‘খাস লোক’। না, তিনি কোনও পুলিশ আধিকারিক ছিলেন না। তাঁর ব্রহ্মাস্ত্র ছিল একটা পেন্সিল আর সাদা কাগজ। বলিউডে পা রাখার অনেক আগে থেকেই মুম্বই পুলিশের হয়ে কাজ করতেন তিনি। তাঁর হাতে আঁকা স্কেচেই ধরা পড়ত বড় বড় অপরাধী! সম্প্রতি ৭৫ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসানের পর প্রকাশ্যে এসেছে এমনই এক অবাক করা অজানা গল্প।

অভিনয়ে সুযোগ পাওয়ার আগের দিনগুলো তাঁর জন্য মোটেই সহজ ছিল না। তিনি স্যার জে জে ইনস্টিটিউট অফ অ্যাপ্লায়েড আর্ট থেকে কমার্শিয়াল আর্টের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সেই সময় হাতে টাকা-পয়সার খুব অভাব। তাই সিনেমার পোস্টার আঁকা থেকে শুরু করে নানা রকম কাজ করতে হত তাঁকে। তাঁর নিখুঁত পোর্ট্রেট আঁকার হাত দেখে মুম্বই পুলিশের কর্তারা তাঁকে ফরেনসিক স্কেচিংয়ে সাহায্য করার প্রস্তাব দেন। সেই সময় আজকের মতো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল না। তাই অপরাধীদের ধরতে হাতে আঁকা স্কেচই ছিল পুলিশের অন্যতম ভরসা।

অপরাধীদের ছবি আঁকা মোটেই সহজ কাজ নয়। চোখের সামনে অপরাধ হতে দেখলে ভয়ে অনেক সময় সাক্ষীদের স্মৃতি ঝাপসা হয়ে যায়। নানা পাটেকর খুব বুদ্ধির সঙ্গে সাক্ষীদের প্রশ্ন করতেন। চোয়ালের গড়ন, নাকের আকার, চোখের দূরত্ব, সব কিছু খুঁটিয়ে জেনে নিয়ে সাদা কাগজে নিখুঁত মুখাবয়ব ফুটিয়ে তুলতেন তিনি। তাঁর এই প্রতিভার জেরেই পুলিশ বহু অপরাধীকে জালে তুলতে পেরেছিল। পুরনো রিপোর্ট অনুযায়ী, মুম্বই দাঙ্গার সময়েও তিনি পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছিলেন।

স্কেচ আঁকার জন্য মানুষের হাবভাব, চোখের ভাষা খুব ভালোভাবে পড়তে হত তাঁকে। আর এটাই পরে তাঁর অভিনয়ে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। নিখুঁত অভিনয়ের ভিত তৈরি হয়েছিল সেই পুলিশের জেরা ঘরেই। ২০১১ সালে ‘শাগির্দ’ ছবির শুটিংয়ের সময় এর প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে।

দিল্লিতে ‘শাগির্দ’ ছবির শুটিং চলছিল। পরিচালক তিগমাংশু ধুলিয়া দেখেছিলেন, পুলিশকর্মীরা অভিনেতাকে খুব সম্মান করছেন। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, অভিনেতা বলেই হয়তো এত খাতির। পরে তিনি জানতে পারেন, পুলিশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অনেক গভীর। এই ভালো সম্পর্কের জন্যই ইন্ডিয়া গেটের মতো জায়গায় শুটিং করার অনুমতি পেতে কোনও সমস্যা হয়নি। পুলিশের তরফ থেকে দারুণ সাহায্য পেয়েছিল ছবির গোটা টিম।

দীর্ঘদিনের এই আত্মিক যোগই নানাকে পুলিশের কাছে সবসময় স্পেশাল করে রেখেছিল। গোয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কাজ আর এই অজানা গল্পগুলো চিরকাল মানুষের মনে থেকে যাবে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us