রাহুলকে নিয়ে সমুদ্রে শুটিংয়ে কোন সমস্যাই হয়নি, সেদিনের অভিজ্ঞতা শোনালেন পরিচালক?

অনেকেরই মনে প্রশ্ন জেগেছে, এত বড় ইউনিট, এত বড়মাপের শুটিং, নিরাপত্তা ব্য়বস্থা কি ছিল না? কোনও সুব্যবস্থা ছাড়াই কীভাবে শুটিং হয়েছে সমুদ্রের জলে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। নানা সূত্র থেকেই নানা রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঠিক এরই মাঝে জানার চেষ্টা করা হল, সিনেমার সমুদ্রের দৃশ্যের শুটিং কী করে হয়? যাতে দুঘর্টনা না ঘটে, তার জন্য কী কী সুরক্ষা নেওয়া উচিত?

রাহুলকে নিয়ে সমুদ্রে শুটিংয়ে কোন সমস্যাই হয়নি, সেদিনের অভিজ্ঞতা শোনালেন পরিচালক?

|

Mar 31, 2026 | 6:57 PM

তালসারিতে সিরিয়ালের শুটিং করতে গিয়ে মৃত্যু হল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের। এই মৃত্য়ুর শোক থেকে যেন এখনও বের হতে পারেনি টলিউড ও অনুরাগীরা। অনেকেরই মনে প্রশ্ন জেগেছে, এত বড় ইউনিট, এত বড়মাপের শুটিং, নিরাপত্তা ব্য়বস্থা কি ছিল না? কোনও সুব্যবস্থা ছাড়াই কীভাবে শুটিং হয়েছে সমুদ্রের জলে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। নানা সূত্র থেকেই নানা রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঠিক এরই মাঝে জানার চেষ্টা করা হল, সিনেমার সমুদ্রের দৃশ্যের শুটিং কী করে হয়? যাতে দুঘর্টনা না ঘটে, তার জন্য কী কী সুরক্ষা নেওয়া উচিত?

এই প্রসঙ্গে জানতে টিভি নাইন বাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল টলিউড পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে। জয়দীপের ‘পুরোপুরী একেন’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রাহুল। এমনকী, এই ছবিতে পুরীর সমুদ্র সৈকতেও রাহুলকে নিয়ে শুটিং করছিলেন পরিচালক। কীভাবে হয়েছিল শুটিং?

জয়দীপ জানান, ”পুরোপুরী একেন ছবির শুটিং করেছিলাম পুরীতে। ছবির বেশ কিছু দৃশ্যের শুটিং সমুদ্রের পারেই হয়েছিল। সেই শুটিংয়ে রাহুলও ছিল। যেহেতু সৈকতেই শুটিং করেছিলাম, জলের মধ্যে বিপদ ঘটার সম্ভাবনা ছিল না। তবে যদি এমন দৃশ্য থাকে, যেখানে জলের মধ্যে অভিনেতাদের থাকার দৃশ্য রয়েছে, তাহলে সুরক্ষার দিকটা নিশ্চিত করা অত্যাবশক। এক্ষেত্রে সমুদ্রে বেশ কয়েকজন নুলিয়াকে রাখা হয়। যাঁরা শিল্পীদের আশপাশে ঘিরে থাকে। শিল্পীরা যতদূর জলে যাবেন, নুলিয়ারাও ততদূর যাবেন একেবারেই পাশাপাশি। ড্রোন শটের ক্ষেত্রে এতে অবশ্য সমস্যা রয়েছে। ক্য়ামেরায় অভিনেতাদের পাশাপাশি নুলিয়াদের চলে আসার সম্ভাবনা থাকে। তবে আমি বলব, সুরক্ষার দিকটা নিশ্চিত করা প্রথমেই প্রয়োজন। প্রয়োজন পড়লে পরে, পোস্ট প্রোডাকশনে কিছু পরিবর্তন করে নেওয়াই যায়।

জয়দীপ আরও জানান, ”আমরা যখন সিরিয়ালের শুটিং গঙ্গাতে করি, তখন টেকনিশিয়ানরা বা স্থানীয় মানুষরা থাকেন, যাঁরা সাঁতার জানেন। এবং নৌকাও রাখা থাকে। যাতে বিপদে কাজে আসতে পারে।” শুধু জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ই নয়, টলিপাড়ার এক প্রোডাকশন ম্যানেজার জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে একটা বাংলা ছবির শুটিং হয়েছিল পুরীতে। সেখানে প্রত্যহ পাঁচজন নুলিয়া কাজ করেছেন। তাঁরা জলের মধ্যে নেমে কাজ করেছেন। তাঁদের পারিশ্রমিক ২০০০ টাকা প্রতিদিন দেওয়া হয়েছিল।

জানা গিয়েছে, সমুদ্র বা জলে শুটিং করার সময় সেভাবে কোনও লিখিত গাইডলাইন নেই। প্রত্যেকটি শুটিং ইউনিট নিজের মতো করেই সুরক্ষার দিকটা মেপে নেয়। সেইমতোই শুটিং চলে। তবে পুলিশ প্রশাসনকে অবশ্যই শুটিং সম্পর্কে জানানো উচিত। তাঁরা নিজের মতো করেই বিষয়টিকে তদারকি করে থাকেন। যেহেতু শুটিংয়ের সঙ্গে বহু তারকারা যুক্ত থাকেন, সেহেতু তাঁদের সুরক্ষাটাও পুলিশ প্রশাসন নিজের মতো পরিচালনা করে নেয়।

Follow Us