
তামিলনাড়ুর রাজনীতির এক ঐতিহাসিক দিনে সিনেমার রুপালি পর্দা আর রাজনীতির ময়দান যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে যখন বিজয় (Vijay) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই সবার নজর কেড়ে সেখানে উপস্থিত হলেন অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান (Trisha Krishnan)। দক্ষিণী মেগাস্টার বিজয় (Vijay) এবং অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের (Trisha Krishnan) রসায়ন নিয়ে চর্চা নতুন নয়। পর্দার এই জনপ্রিয় জুটি বাস্তবেও একে অপরের প্রেমে মজেছেন- এমন গুঞ্জন দীর্ঘদিন ধরেই ভাসছে চেন্নাইয়ের বাতাসে। তবে এবার সেই চর্চায় ঘি ঢাললেন গায়িকা সুচিত্রা। সোজাসাপ্টা ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, তৃষা তাঁর দু-চোখের বিষ। এমনকি অভিনেত্রীকে ‘পরজীবী’ বা ‘প্যারাসাইট’ বলতেও দ্বিধা করেননি তিনি। সুচিত্রার দাবি, বিজয়ের রাজনৈতিক সাফল্যের সুফল ভোগ করতেই নাকি তাঁর জীবনে তৃষার এই প্রবেশ।
কেন তৃষাকে একেবারেই সহ্য করতে পারেন না গায়িকা?
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা স্পষ্ট জানান, তিনি বিজয়কে পছন্দ করলেও তৃষাকে একদমই সহ্য করতে পারেন না। তাঁর মতে, তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল বিপুল জয় পাওয়ার পরই তৃষার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। সুচিত্রা অভিযোগ করেন “যখন কোনও সফল মানুষ একা হয়ে পড়েন, তখন তাঁর জীবনে পরজীবীরা এসে ভিড় করে।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, বিজয় বর্তমানে তাঁর বাবা-মা এবং স্ত্রীর থেকে দূরে থাকছেন। এই একাকীত্বের সুযোগ নিয়েই নাকি তৃষা তাঁর জীবনে নিজের জায়গা পাকা করছেন। সুচিত্রার কথায়, রাজনীতিতে সফল হতে গেলে বিজয়ের উচিত তাঁর বাবা চন্দ্রশেখরের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা, নাহলে এই যাত্রায় তিনি সফল হতে পারবেন না।
সুচিত্রা এবং তৃষা
২০০৪ সালে ‘গিল্লি’ সিনেমার সময় থেকেই বিজয় ও তৃষার অফ-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর ‘কুরুভি’ ছবির পর হঠাৎ করেই এই জুটি একসঙ্গে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। শোনা যায়, বিজয়ের পরিবার থেকেই নাকি তৃষার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ২০২৩ সালে ‘লিও’ ছবিতে আবারও এই জুটিকে একসঙ্গে দেখা যায়। এরপর থেকেই তাঁদের সম্পর্কের গুঞ্জন নতুন করে ডানা মেলে।
ভাঙনের মুখে বিজয়ের সংসার
এ বছর বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা যখন বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন, তখন তিনি পরোক্ষভাবে এক অভিনেত্রীর সঙ্গে বিজয়ের সম্পর্কের দিকে আঙুল তুলেছিলেন। নেটিজেনদের একটা বড় অংশের ধারণা ছিল, সেই ইঙ্গিত তৃষার দিকেই। অন্যদিকে, নির্বাচনে বিজয়ের জয়ের পর তাঁর ছেলে জেসন সঞ্জয় এবং মেয়ে দিব্যাকেও বাবার পাশে দেখা যায়নি।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় নিজের চেন্নাইয়ের বাড়ির বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তৃষা। পরনে সাধারণ পোশাক থাকলেও তাঁর মুখে ছিল আত্মবিশ্বাসের হাসি। দিনটি নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি সংক্ষেপে বলেন, “ধন্যবাদ, আমি এই অনুষ্ঠানের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।” স্টেডিয়ামে তাঁর প্রবেশ করার মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তৃষা আর বিজয়ের সম্পর্কের গুঞ্জন কী সত্যিই রটনা, না গায়িকার কথাই সত্যি? সেই উত্তর সময়ই বলবে।