
বলিউড তারকা বরুণ ধাওয়ান সম্প্রতি তাঁর শিশুকন্যা লারার একটি কঠিন শারীরিক সমস্যার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। অভিনেতা জানিয়েছেন, লারা ‘ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লেসিয়া অফ দ্য হিপ’ (DDH) নামক একটি সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিল, যা তার স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছিল। ‘বি অ্যা ম্যান, ইয়ার!’ নামক একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে বরুণ এই আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন।
বরুণ জানান, এই সমস্যার কারণে লারার দুই পায়ের ভারসাম্য ঠিক ছিল না, যার ফলে তার হাঁটা বা দৌড়ানোর ক্ষেত্রে প্রবল অসুবিধা হচ্ছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে লারাকে একটি বিশেষ চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রায় আড়াই মাস তাকে ‘স্পাইকা কাস্ট’ (এক ধরণের বিশেষ প্লাস্টার) পরে থাকতে হয়েছিল। অভিনেতা এই সময়টিকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বলে বর্ণনা করেছেন, বিশেষ করে লারাকে যখন অ্যানাস্থেশিয়া দিয়ে প্লাস্টার পরানো হয়েছিল এবং সেই অবস্থাতেই তার জ্ঞান ফিরেছিল।
তবে স্বস্তির খবর হল, লারাকে কোনও বড় অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। চিকিৎসকরা বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমেই হিপ বা কোমরের হাড়ের এই অসামঞ্জস্যতা ঠিক করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে লারার প্লাস্টার খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। বরুণ উল্লেখ করেন যে, অনেক দেশে জন্মের পরপরই এই রোগ শনাক্ত করা হয়, কিন্তু ভারতে এর সচেতনতা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি।
বরুণ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি লারার জন্য কারও ‘সিম্প্যাথি’ বা সহানুভূতি চান না। বরং তিনি চান অন্যান্য অভিভাবকরা যেন সচেতন হন। সন্তানদের হাঁটাচলা বা শরীরের নড়াচড়ায় সামান্যতম অস্বাভাবিকতা দেখলেই যেন দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি ভবিষ্যতে একটি বই লেখার পরিকল্পনাও করছেন, যাতে অন্য পরিবারগুলি এই রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পায়।
২০২৪ সালে বরুণ ধাওয়ান এবং নাতাশা দালালের কোল আলো করে আসে লারা। বাবা হওয়ার পর নিজের মানসিক পরিবর্তনের কথা বলতে গিয়ে বরুণ জানান, পিতৃত্ব তাঁকে অনেক বেশি আবেগপ্রবণ ও সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।