
বিনোদন জগতে ফের শোকের ছায়া। জনপ্রিয়তার একেবারে শিখরে থেকেও আচমকাই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। আর সেই দীর্ঘ অন্তরালেই চিরঘুমে চলে গেলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এই মারণরোগের সঙ্গে চলছিল তাঁর দীর্ঘ লড়াই। অবশেষে সেই লড়াই থামল। গত রবিবার রাতে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাতের দশকের এই দাপুটে নায়িকা। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় অভিনেত্রীর ছবি শেয়ার করে শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন “মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁর স্মৃতি ও তাঁর কাজ আমাদের মধ্যে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। গভীর শ্রদ্ধা।”
টিভি৯ বাংলা-র কাছে খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রীর পারিবারিক বন্ধু প্রবীর রায়। প্রবীর বলেন, “গতকাল রাত্রিবেলা আমি খবরটা পেয়েছি। কিন্তু ঠিক কখন ঘটনাটি ঘটেছে, তা আমি বলতে পারব না। ও এক বছর ধরে ক্যানসারে ভুগছিল”।
যাঁর সৌন্দর্য, সাবলীল অভিনয় আর দুরন্ত ব্যক্তিত্ব একসময় বাংলা ছবির পর্দায় নিজস্ব এক আবহ তৈরি করেছিল, তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়টিও কাটল বড্ড নিঃশব্দে। সাতের দশকের বাংলা সিনেমায় মিঠু মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ছিল একেবারে অন্যরকম। কখনও প্রেমিকা, কখনও প্রাণবন্ত তরুণী, আবার কখনও বা একদম অন্য মেজাজের চরিত্র—নিজেকে কোনও নির্দিষ্ট ছকে কখনও আটকে রাখেননি তিনি। তাঁর অভিনয়ে যেমন ছিল স্বতঃস্ফূর্ততা, তেমনই ছিল ক্যামেরার সামনে প্রাণখোলা উপস্থিতি। ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘মর্জিনা আবদুল্লা’, ‘মৌচাক’, কিংবা ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’—সাতের দশকের একের পর এক হিট সিনেমায় তাঁর অভিনয় আজও সিনেপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন।
বলিউডের রেখার সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত মিল খুঁজে পেতেন দর্শকরা। পর্দায় তাঁর সেই সহজাত আকর্ষণ আর গ্ল্যামার দেখে তাঁকে ভালোবেসে ‘কলকাতার রেখা’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যতটা দ্রুত তিনি দর্শকের মনে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছিলেন, ততটাই নিঃশব্দে সরে গিয়েছিলেন রূপোলি জগৎ থেকে। জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় নিজেকে জনসমক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নিয়েছিলেন।
রবিবার রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই টলিপাড়ায় নেমে এসেছে শোকের স্তব্ধতা। নিভৃতবাসেই জীবনের শেষ দিনগুলো কাটালেন একসময়ের এই চর্চিত নায়িকা। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে অবসান হল একটা গোটা যুগের। চিরতরে নিভে গেল বাংলা সেলুলয়েডের আরও এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।