কেরিয়ার শেষ করার হুমকি ফোন! সলমনের সঙ্গে বিবাদ নিয়ে বিস্ফোরক বিবেক ওবেরয়, কী ঘটেছিল নায়কের সঙ্গে?
বর্তমানে বিবেক ওবেরয় কেবল অভিনয়েই নয়, একজন সফল ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে ভিলেন হিসেবে তাঁর পুনরুত্থান দর্শক মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। কেরিয়ারের সেই ‘কালো অধ্যায়’ পেরিয়ে বিবেক এখন ইতিবাচক মানসিকতায় বিশ্বাসী।

২০০৩ সালের সেই অগ্নিগর্ভ অধ্যায় আজও ভোলেননি সিনেপ্রেমীরা। সলমনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক বৈঠক করার পর বিবেক ওবেরয়ের জীবনে নেমে এসেছিল চরম বিপর্যয়। দীর্ঘ সময় পর সেই স্মৃতি হাতড়ে বিবেক জানালেন, সেই সময় কেবল কেরিয়ার নয়, তাঁর জীবনও হুমকির মুখে পড়েছিল। কিন্তু এত বছর পর তিনি আর কোনও তিক্ততা পুষে রাখতে চান না।
সাক্ষাৎকারে বিবেক জানান, সেই বিবাদের পর তাঁর কাছে অসংখ্য হুমকি ফোন আসত। আন্ডারওয়ার্ল্ড বা অজ্ঞাতপরিচয় জায়গা থেকে আসা সেই ফোনগুলো তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। অভিনেতা বলেন, “একটা সময় ছিল যখন আমার কেরিয়ার শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। ভালো কাজ আসছিল না, আর চারপাশে ছিল কেবল শত্রুতা। কিন্তু সেই কঠিন সময়েও আমি লড়ে গিয়েছি।”
বিবেকের কথায়, নিজের লড়াই তিনি সয়ে নিতে পারতেন, কিন্তু তাঁর পরিবারের ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গিয়েছিল, তা মেনে নেওয়া ছিল কঠিন। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমি আমার ব্যক্তিগত ক্ষতিগুলো ভুলে যেতে পারি, কিন্তু আমার মায়ের চোখের জল ভোলা সম্ভব নয়। আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আমার মা যে রাতগুলো জেগে কাটিয়েছেন, সেই যন্ত্রণার জায়গা থেকে সরে আসা সত্যিই কঠিন। তবুও জীবনের খাতিরে আমাদের এগিয়ে যেতে হয়।” সলমন খানের প্রতি কি আজও কোনও ক্ষোভ রয়েছে? বিবেকের উত্তর ছিল অত্যন্ত পরিণত। তিনি বলেন, “আমি এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে যেখানে কারও প্রতি কোনও তিক্ততা বা রাগ পুষে রাখতে চাই না। জীবন খুব ছোট। আমি আমার কাজ, পরিবার এবং সমাজসেবা নিয়ে সুখে রয়েছি। অতীতকে আঁকড়ে ধরে বর্তমান নষ্ট করার কোনও মানে হয় না।”
বর্তমানে বিবেক ওবেরয় কেবল অভিনয়েই নয়, একজন সফল ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে ভিলেন হিসেবে তাঁর পুনরুত্থান দর্শক মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। কেরিয়ারের সেই ‘কালো অধ্যায়’ পেরিয়ে বিবেক এখন ইতিবাচক মানসিকতায় বিশ্বাসী। বলিউডের এই পুরনো দ্বন্দ্বের অবসান হয়তো সরাসরি হয়নি, কিন্তু বিবেকের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দিল যে তিনি মানসিক শান্তির পথটি বেছে নিয়েছেন।
