অমিতাভের জন্যই কি সিনেমা ছেড়়ে ওশোর আশ্রমে থাকতে শুরু করেন বিনোদ খান্না?
ওশোর ভাই স্বামী শৈলেন্দ্র সরস্বতী একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে রাজনীশপুরমের সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি জানান, আশ্রমে মালির কাজ করার সময় বিনোদ খান্নাকে প্রায়ই বিষণ্ণ দেখাত। আশ্রমের অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো স্ত্রী এবং দুই ছোট ছেলের কথা মনে পড়ায় তিনি দুঃখী। কিন্তু ওশোর তত্ত্ব ছিল একদম ভিন্ন।

যখন তিনি সাফল্যের মধ্যগগনে, যখন তাঁর একেকটি ছবিতে বক্স অফিসে ঝড় উঠত, ঠিক তখনই সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়ে বলিউড থেকে বিদায় নিয়েছিলেন বিনোদ খান্না। সু্পারস্টারডম বিসর্জন দিয়ে তিনি পাড়ি দিয়েছিলেন আমেরিকায় ওশোর আশ্রমে। সেখানে এক সময়ের পর্দা কাঁপানো নায়ক কাজ নিয়েছিলেন মালির। বিনোদ খান্নার সেই শূন্যস্থান দ্রুত ভরাট করে ফেলেন অমিতাভ বচ্চন। কিন্তু ওশোর দাবি অনুযায়ী, এই বিষয়টি মোটেই সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি বিনোদ।
ওশোর ভাই স্বামী শৈলেন্দ্র সরস্বতী একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে রাজনীশপুরমের সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি জানান, আশ্রমে মালির কাজ করার সময় বিনোদ খান্নাকে প্রায়ই বিষণ্ণ দেখাত। আশ্রমের অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো স্ত্রী এবং দুই ছোট ছেলের কথা মনে পড়ায় তিনি দুঃখী। কিন্তু ওশোর তত্ত্ব ছিল একদম ভিন্ন।
ওশো নিজে লক্ষ্য করেছিলেন বিনোদের এই বিষণ্ণতা। শৈলেন্দ্র সরস্বতীর বয়ান অনুযায়ী, ওশো তখন বলেছিলেন, “না, ও পরিবারের অভাব বোধ করছে না। ওকে বলো ভারতে ফিরে যেতে এবং অমিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়তে।”
শৈলেন্দ্রর কাছে বিষয়টি অবাক করার মতো ছিল, কারণ বিনোদ খান্নার মধ্যে তখন রাজনৈতিক কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখা যায়নি। ওশোর পর্যবেক্ষণ ছিল তীক্ষ্ণ—তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বিনোদের অবচেতন মনে আসলে পরিবারের বিরহ নয়, বরং তাঁর ফেলে আসা ‘সিংহাসন’ হারানোর যন্ত্রণা কাজ করছে। তিনি যখন বলিউড ছেড়েছিলেন তখন তিনি ছিলেন ‘নাম্বার ওয়ান’। তাঁর অনুপস্থিতিতে অমিতাভ বচ্চন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছেন।
স্বামী শৈলেন্দ্র আরও যোগ করেন, “বিনোদের সচেতন মন তাকে বোঝাচ্ছিল যে সে একজন মহান মানুষ যে তাঁর পরিবারকে মিস করছে। কিন্তু ওশো বলেছিলেন, বিনোদ আসলে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের স্থানটি মিস করছেন। অমিতাভের প্রতি সেই ঈর্ষা বা হারানোর যন্ত্রণা তাঁর মধ্যে অন্যভাবে প্রকাশ পাচ্ছিল।”
ওশোর কথা যেন মিলেই গিয়েছিল। আশির দশকের শেষভাগে ভারতে ফিরে আসেন বিনোদ খান্না। দ্বিতীয়বার শুরু করেন তাঁর সিনেমা সফর, উপহার দেন একের পর এক হিট ছবি। শুধু তাই নয়, রাজনীতিতেও পা রাখেন তিনি এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৭ সালে ২৭ এপ্রিল মূত্রাশয়ের ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চিরবিদায় নেন এই মহাতারকা।
