‘বন্ধু অনীকদাকে ব্লক করে দিয়েছিলেন’, দাবি দেবলীনার, প্রাক্তন স্ত্রী কী বললেন
পরিচালক অনীক দত্তর রহস্য়মৃত্যুর পর চর্চার কেন্দ্রে এসেছেন তাঁর বন্ধু পর্নালী ধর চৌধুরী। পর্নালীকে বেশ কিছুবার টলিপাড়ার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনীকের পাশে দেখা গিয়েছে। পরিচালকের শেষ ছবি 'যত কাণ্ড কলকাতাতেই'-এর স্ক্রিনিংয়ে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এবার টলিপাড়ার একাংশ, যাঁরা অনীকের পারিবারিক বন্ধু, তাঁরা ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছেন পর্নালীর বিরুদ্ধে।

পরিচালক অনীক দত্তর রহস্য়মৃত্যুর পর চর্চার কেন্দ্রে এসেছেন তাঁর বন্ধু পর্নালী ধর চৌধুরী। পর্নালীকে বেশ কিছুবার টলিপাড়ার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনীকের পাশে দেখা গিয়েছে। পরিচালকের শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-এর স্ক্রিনিংয়ে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এবার টলিপাড়ার একাংশ, যাঁরা অনীকের পারিবারিক বন্ধু, তাঁরা ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছেন পর্নালীর বিরুদ্ধে। পর্নালী অনীকের ফোন নম্বর ব্লক করে দিয়েছিলেন, এমন দাবি কিছুজনের। এই ব্যাপারে জানতে TV9 বাংলার তরফে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল পর্নালীর সঙ্গে। তাঁকে যোগাযোগ করা যায়নি।
ফেসবুকে গায়িকা পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ”আমি বলেছিলাম অনীকদা, ‘ভেবো না ও তোমাকে দেখবে। তোমার সেবা যত্ন করবে। কিছু করবে না। তোমাকে ছিবড়ে করে দিয়ে যেদিন ছুড়ে ফেলে দেবে, তোমার মনে হবে তুমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছ।’ আমি অনীকদাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু উনি শোনেননি। সেদিনই আমাদের শেষ তর্ক হয়। তারপর দেখি আমাকে পর্ণালী ফেসবুকে ব্লক করেছেন। ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ ছবির মুক্তি ছিল ক’ দিন পর। প্রথমবার অনীকদার ছবির প্রিমিয়ারে আমন্ত্রণ পাইনি। বুঝতেই পারি, কে এমন করাচ্ছেন।”
এই ব্যাপারে TV9 বাংলা কথা বলে অনীক দত্তর প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্তর সঙ্গে। পর্নালীর সমালোচনা করছেন অনেকে, তাঁর কী মত? প্রশ্ন শুনে সন্ধি বললেন, ”পর্নালীর বিষয়ে আমি কোনও কথা বলতে পারব না। ওঁর সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানি না, চিনি না, ফোনে একটা দিন কথা পর্যন্ত হয়নি। তাই এক্ষেত্রে আমার কিছু বলার নেই। এটা বলতে পারি, অনীকের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা সাড়ে তিন বছর ধরে ভালো ছিল না। গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিল। চিকিত্সা চলছিল। এরকম অবস্থায়, অনেকে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।” এখন অনীক-পর্নালীকে নিয়ে এই আলোচনা কি কাম্য? সন্ধি বললেন, ”কী কাম্য, কী কাম্য না, বলতে পারব না। কারণ ওঁকে চিনি না। আর যাঁরা এই মৃ্ত্যু সম্পর্কে জানতে চাইছেন, তাঁদের পুলিশের তদন্তের উপর ভরসা রাখতে হবে। আমার সাক্ষাত্কার নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।”
অনীককে সাইকোলজিস্টের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত। অনীক-পর্নালীর বন্ধুত্ব টলিপাড়ার চোখে পড়লেও, একটা সময়ের পর পর্নালী নাকি অনীকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেন, এমনই কথা অনেকে লিখছেন সমাজ মাধ্যমে। দেবলীনা TV9 বাংলাকে জানালেন, ”অনীকদার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকত, এমন কিছু বন্ধু ছিল। আমি যেমন বললাম, যখন প্যানিক অ্যাটাক হতো, তখন অনীকদার সঙ্গে কথা হয়েছিল আমার। উনি ফোন করে এরকম কথা জানাতে পারতেন, এরকম গুটিকয়েক বন্ধুই ছিল অনীকদার। পর্নালী সেরকমই একজন বন্ধু, অনীকদা তাই আমাকে বলেছিলেন। আমরা যাঁরা এমন বন্ধু, তাঁরা জানতাম অনীকদার ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন রয়েছে, তাঁদের মধ্যে কেউ একজন যদি, হঠাত্ করে অনীকদাকে ব্লক করে দিই, তা হলে যে মানুষটার ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন আছে, তাঁর জন্য মারাত্মক। আমি যদি জানি, বন্ধুর ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন আছে, তা হলে এরকম হঠাত্ করে ব্লক করে দিতে পারি না। কারণ এটা অসুখ। হ্যাঁ, আমি জানি উনি, যাঁকে নিয়ে কথা হচ্ছে, তিনি ব্লক করে দিয়েছিলেন। সেটা অনীকদা আমাকে বলেছিলেন। এই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত, এবং তার জন্য খুব ডিস্টার্বড ছিলেন অনীকদা। আমি তুতুলদিকে (স্ত্রী সন্ধি দত্ত) বরাবরই খুব যত্নে রাখতে দেখেছি অনীকদাকে, যত দিন ওঁরা একসঙ্গে ছিলেন।”
