
রানা সরকারের প্রযোজনায় রাজদীপ ঘোষের পরিচালনায় মহুয়া রায়চৌধুরীর বায়োপিক তৈরি হচ্ছে টলিপাড়ায়। যেখানে মহুয়ার চরিত্রে অভিনয় করছেন অঙ্কিতা মল্লিক। মহুয়ার কম বয়সের চরিত্রে দেখা যাবে টেলিভিশনের আর এক জনপ্রিয় মুখ দিব্যাণী মণ্ডলকে। যেহেতু পিরিয়ড পিস, তাই এই ছবিতে বাংলার স্বর্ণযুগের বিভিন্ন নামী মুখের আদলে তৈরি চরিত্রে অভিনয় করবেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।
খবর হল, মহুয়ার প্রিয় বান্ধবী রত্না ঘোষালের চরিত্রে অভিনয় করছেন রিমঝিম মিত্র। রিমঝিম ২০০২ সাল থেকে বাংলা ছবিতে কাজ করছেন। তবে বাংলা টেলিভিশনে নিয়মিত কাজ করলেও, সিনেমায় তাঁকে অপেক্ষাকৃত কম দেখা যায়। এর কারণ কী? রিমঝিম বললেন, ”আমি ধারাবাহিকে অভিনয় করলে, সেই সময়ে সিনেমায় কাজ করতে সমস্যা হয়। তাই কম সিনেমা করেছি। তবে মাঝে আমি একটা বিরতি নিয়েছিলাম ধারাবাহিক থেকে। তখনই এই ছবির প্রযোজকের সঙ্গে চরিত্রটা নিয়ে কথা হয়। সেটা আগে থেকে ঠিক হয়ে ছিল বলেই, এখন ‘কম্পাস’ করলেও, এই ছবিটা করছি।”
লক্ষণীয় রত্না আর মহুয়া এই দুই বান্ধবীর সম্পর্ক কিন্তু ভীষণ চর্চিত। তাঁরা বন্ধু ছিলেন। রত্নার বাড়িতে মহুয়ার যাতায়াত ছিল। রত্না মহুয়াকে বেশ কাছ থেকে দেখেছেন। মহুয়ার মৃত্যুর পর রত্নার মুখ থেকে এমন কিছু তথ্য জনসমক্ষে এসেছে, যা মহুয়ার অনুরাগীদের পছন্দ নয়। যেমন রত্না ঘোষাল একটি সাক্ষাত্কারে দাবি করেছিলেন, মহুয়া মদের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন। তাঁর বর যেমন মদ খেতেন, তেমনই দুই বছরের ছেলেকেও নাকি তিনি চামচ করে মদ খাইয়েছিলেন। রত্নার দাবি, এসব তাঁর নিজের চোখে দেখা ঘটনা। বাংলাদেশের একটা ছবিতে কাজ করার জন্যই উতলা হয়ে পড়েছিলেন মহুয়া। প্রথমে বাংলাদেশের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। সেই সময়ে মহুয়া হতাশায় ভুগছিলেন। এদিকে মহুয়ার মৃত্যুর পরই বাংলাদেশে যাওয়ার জটিলতা কেটে যায়। সেই খবর আসে রত্নার কাছেই।
কিন্তু রত্না বা মহুয়ার কাছের বহু মানুষের বিভিন্ন বক্তব্য থাকলেও, ঠিক কী হয়েছিল, তা আজও অজানা। রিমঝিম কি রত্নাকে ফোন করে কোনও ঘটনা জানতে চেয়েছেন? অভিনেত্রী জানালেন, ”আমি সেটা করছি না। কারণ এই ছবিতে সবই অনুপ্রাণিত চরিত্র। হয়তো লুকে কিছুটা মিল থাকবে। তাই পরিচালক যেভাবে চাইছেন, চিত্রনাট্যে যা আছে, সেভাবেই কাজটা করব।”