
রাজ্যে গেরুয়া ঝড়। সরকার বদল হলো। টলিপাড়ায় ব্যান সংস্কৃতি উঠে যাবে, আশ্বাস বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ থেকে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের। এরই মধ্যে নায়ক অঙ্কুশ মুখ খুললেন স্ক্রিনিং কমিটির বিরুদ্ধে। একটু পিছিয়ে গেলে দেখা যাবে, সেই সময়ের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নন্দনে একটি মিটিং ডাকেন টলিপাড়ার কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে নিয়ে। সেখানে বাংলা ছবির মুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর তৈরি হয় একটা স্ক্রিনিং কমিটি।
স্ক্রিনিং কমিটিতে স্বরূপ বিশ্বাস যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন ইমপা-র সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। টলিপাড়ার নামী প্রযোজকদের পাশাপাশি ছিলেন প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়, দেব এবং জিত্। ২০২৬-এর সরস্বতী পুজোতে অঙ্কুশ আর ঐন্দ্রিলা সেনের ছবি ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’ মুক্তি পাবে, তা আগে থেকে ঘোষণা করা ছিল। কিন্তু ২০২৫-এর ডিসেম্বর থেকে সরে আসে ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ আর ‘বিজয়নগরের হীরে’। যেহেতু বড়দিনে তিনটে বাংলা ছবির মুক্তি ঠিক হয়ে গিয়েছিল। জানুয়ারি মাসের সরস্বতী পুজোর সপ্তাহে এর সঙ্গে যোগ হয় ‘হোক কলরব’। এরকম পরিস্থিতিতে অঙ্কুশকে এই ছুটির সময়টা ছেড়ে দিয়ে জানুয়ারির গোড়াতেই ছবি নিয়ে আসতে হয় দর্শকদের সামনে। স্ক্রিনিং কমিটির পরামর্শ মানতে হয় নায়ককে।
এবার অঙ্কুশ কিন্তু ক্ষোভের সুরে বললেন, ”আপনারা জানেন, ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’ বক্স অফিসে তত ভালো ফল না করার পর আমি বলেছিলাম, এই বছর আর ছবিই আনব না। অন্য সময়ে একটা কাজ শেষ করেই পরের কাজটা প্ল্যান করি। কিন্তু এবার মনে হচ্ছিল, গল্প নিয়ে এখানে যেতে হবে, ওখানে যেতে হবে, কত জনকে নিয়ে কাজ করা যাবে, সেটা কেউ বলবে, তারপর ছবি রিলিজ করতে দেবে কিনা…সেই কারণেই বলেছিলাম, এই বছর কাজই করব না। তবে এখন ভেবেছি, দুর্গাপুজোর পর হয়তো নতুন ছবির কাজে হাত দেবো।”
স্ক্রিনিং কমিটির সিদ্ধান্তে কি খুশি ছিলেন না অঙ্কুশ? চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এখন আর টলিপাড়ায় সেই নির্দিষ্ট স্ক্রিনিং কমিটি ঠিক করে দিচ্ছে না, কে কোন তারিখে ছবি নিয়ে আসবেন দর্শকদের সামনে। নতুন সরকার গঠনের পর, আগামী দিনে এক্ষেত্রে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা জানার অপেক্ষা।