
কিশোর কুমার ও লতা মঙ্গেশকর জুটি মানেই সুপারহিট। একের পর এক হিট গান উপহার দিয়েছেন তাঁরা। ১৯৪৮ সালে প্রথম তাঁরা একসঙ্গে গান গেয়েছিলেন- ইয়ে কৌন আয়া রে। তবে থেকেই একসঙ্গে পথচলা শুরু। লতা মঙ্গেশকর নিজেই একটা সময় জানিয়েছিলেন যে, কিশোর কুমার যেমন ভাল গায়ক ছিলেন, ঠিক তেমনই ভাল মনের মানুষ ছিলেন। লতা মঙ্গেশকর সারা জীবন তাঁর অভাব অনুভব করবেন। তবে সেই সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরই একটা সময় স্থির করেছিলেন যে কিশোর কুমারের সঙ্গে আর গান গাইবেন না। কারণটাও তিনি সাফ জানিয়েছিলেন একটি সাক্ষাৎকারে। কিশোর কুমার রেকর্ডিং-এ ঢোকা মাত্রই শুরু হয়ে যেত ঠাট্টা মজা। সকলেই হাসতে থাকতেন। একটা সময় লতা মঙ্গেশকরের গলা ক্লান্ত হয়ে পড়ত। কিন্তু কিশোর কুমার তারপর বেশ মন খুলে গান গেয়ে চলে যেতেন।
কিন্তু ততক্ষণে লতা মঙ্গেশকরের গলা বা কণ্ঠ বেশ ক্লান্ত হয়ে যেত। তিনি আর গান গাইতে পারতেন না সেভাবে। সেই কারণেই তিনি স্থির করেছিলেন যে কিশোর কুমারের সঙ্গে আর গান গাইবেন না। উল্লেখ্য, সে কালে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত গায়িকাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন লতাজি। শেষ সময় যদি তিনি গাইতেন তবে তাঁর পারিশ্রমিক গান পিছু ১ থেকে ২ লাখ টাকাও হতে পারত। তবে লতা মঙ্গেশকর বহুবছর গানের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। যদিও গানের চর্চা থেকে নয়, কেবল নতুন কোনও গান গাইতে রাজি ছিলেন না তিনি। কনসার্টে একটা বয়স পর্যন্ত তাঁকে গাইতে শোনা যেত। বস বাড়লেও গলার মিষ্টতা আজীবন যেন একই থেকে গিয়েছে তাঁর। প্রতিটা পরিচালকই চাইতেন, ছবিতে তাঁর একটা গান। তবে একটা সময়ের পর বয়সের ভারে আর গান গাইতে পারতেন না লতা। রাখতে পারতেন না দম। তাই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন কনসার্ট থেকে। যদিও গানের সঙ্গে তাঁর সফরে কোনওদিন ভাটা পড়েনি।