
দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও পর্দায় ফিরছে হগওয়ার্টসের সেই চেনা জাদু। তবে ২০২৬ সালের বড়দিনে মুক্তি পেতে চলা এই নতুন সিরিজ নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। বিশেষ করে ৯০ দশকের ‘পটারহেড’ বা মিলিনিয়ালরা এই রিমেকে একেবারেই খুশি হতে পারছেন না।

ড্যানিয়েল র্যাডক্লিফ, এমা ওয়াটসন ও রুপার্ট গ্রিন্টের বদলে এবার দেখা যাবে ডমিনিক, অ্যারাবেলা ও অ্যালিস্টারকে। ওজি ফ্যানদের দাবি, পর্দার সেই পুরনো হ্যারি, হারমায়োনি আর রনের আবেগ ও রসায়ন নতুন ট্রায়ো কখনওই ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

নতুন সিরিজের ট্রেলারে জাদুর অভাব দেখছেন ভক্তরা। অনেকের মতে, কালার গ্রেডিং এতটাই অনুজ্জ্বল যে জাদুর জগতের চেয়ে একে অনেক বেশি ভুতুড়ে বা ‘ডার্ক’ মনে হচ্ছে। এই নতুন ঘরানাটি পুরনো ভক্তদের মনে মোটেও জায়গা করে নিতে পারেনি।

রেডিট থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— ‘কেন এই রিমেক?’ ভক্তদের মতে, হ্যারি পটারের মতো ক্লাসিক সিনেমাগুলো এতটাই নিখুঁত যে সেগুলোকে নতুন করে তৈরি করা নিছক সৃজনহীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

নতুন সিরিজে সেভেরাস স্নেপের চরিত্রে অভিনয় করছেন কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা পাপা এসিয়েদু। অ্যালান রিকম্যানের অমর করে যাওয়া চরিত্রে এমন বদল মেনে নিতে না পেরে অনেকেই তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। যা ঘিরে ইন্ডাস্ট্রিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায় নিয়ে জেকে রাউলিংয়ের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণেও এই সিরিজের ওপর কালো মেঘ জমেছে। এলজিবিটিকিউআই (LGBTQI) সমর্থকদের একটি বড় অংশ এই সিরিজটি পুরোপুরি বয়কট করার ডাক দিয়েছে। এমনকি অনেক টেকনিশিয়ানও তাঁর সঙ্গে কাজ করতে নারাজ।

বিতর্ক থাকলেও লেখিকা জেকে রাউলিং কিন্তু নতুন কাস্ট নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। তিনি জানিয়েছেন, ৩০ হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে সঠিক প্রতিভাগুলোকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে হ্যারি পটারকে পৌঁছে দিতে এই সিরিজ বড় ভূমিকা নেবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।

তর্ক-বিতর্ক যাই থাক, হগওয়ার্টস এক্সপ্রেসের সেই হুইসেল বা প্ল্যাটফর্ম ৯-৩/৪ দেখলে আজও শিহরণ জাগে। শত সমালোচনার মাঝেও প্রিয় জাদুর দুনিয়ায় একবার ডুব দিতে অনেক ভক্তই দিন গুনছেন। নতুন এই সিরিজ জাদুর সেই পুরনো আবেশ ফিরিয়ে আনতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।